বেশ কিছুদিন ধরে তরুণ-তরুণীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বাঁধল যতসব ঝামেলা। কারণ তরুণী পরিবারের সম্মতি ছাড়া এই বিয়ে করবেন না। পরিবার অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক করলে ক্ষুব্ধ প্রেমিক হবু বরের পরিবারে তরুণীর কিছু ছবি ও গোপন বার্তা পাঠিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন। প্রেমিকার বিয়ে প্রত্যাখ্যান এবং প্রেমিকের প্রতিশোধের জেরে ভারতের মধ্যপ্রদেশের জবলপুর জেলায় দুটি পরিবার মধ্যে এক ভয়াবহ সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় দুই পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাস্তায় পার্ক করা দুটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এক পক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, এই সহিংসতার জেরে দুই পক্ষের অন্তত ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে জবলপুর শহর থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে মাঝাউলি এলাকায়। পুলিশ জানায়, সরাফ ও তিওয়ারি পরিবারের এই তরুণ-তরুণীর সম্পর্ক ও বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটি দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। বিষয়টি মিটমাট করার জন্য দুই পরিবারের সদস্যরা একটি বৈঠকে বসেন। কিন্তু সেই আলোচনা কোনো মীমাংসা আনতে পারেনি, উল্টো তাদের বিরোধকে আরও তীব্র করে তোলে।
স্থানীয় মাঝাউলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেহেরু খাড়তে জানান, গত শুক্রবার গভীর রাতে দুই পরিবারের সদস্যরা থানার ঠিক সামনে অবস্থিত বাজার চত্বরে এসে জড়ো হন। সেখানে তাদের মধ্যকার তর্কাতর্কি চোখের পলকে সহিংসতায় রূপ নেয়। দুই পক্ষের লোকজন লাঠি ও মুগুর নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এই মারামারির একপর্যায়ে সেখানে পার্ক করে রাখা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং দমকল বাহিনীকে খবর দিয়ে আগুন নেভানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গতকাল শনিবার জবলপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) সম্পদ উপাধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, তরুণ-তরুণীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মতবিরোধের জেরে এই বিবাদের সূত্রপাত। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে দাঙ্গাসহ আইনের বিভিন্ন ধারায় পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় প্রায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এসপি আরও জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।