Image description

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের (হিমার্স) মহড়া চালিয়েছে তাইওয়ান। কৌশলগত জলসীমায় চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় দেশটির দিকে প্রথমবার বুধবার (১০ জুন) এই মহড়া চালানো হয়। খবর রয়টার্সের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বহুল ব্যবহৃত অস্ত্রটির মাধ্যমে তাইওয়ান দেখিয়েছে, কীভাবে হামলা চালিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে শত্রুপক্ষের পাল্টা আঘাত এড়ানো সম্ভব।

গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে চীন। দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় হামলার সম্ভাবনা কখনো নাকচ করেনি বেইজিং। এদিকে চীনা যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ান সীমান্ত ঘেঁষে মহড়া দেয়।

লকহিড মার্টিন নির্মিত হাইমোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমার্স) প্রথম পরীক্ষা গত বছর তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে পরিচালিত হয়। তবে বুধবার প্রথমবারের মতো মধ্যাঞ্চলের তাইচুং এলাকায় পশ্চিম উপকূলে এই নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা চালানো হয়।

তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল হিমার্সের গতিশীলতা এবং হামলার পর দ্রুত স্থান পরিবর্তনের ক্ষমতা প্রদর্শন করা। তাদের মতে, এই কৌশল যুদ্ধক্ষেত্রে বাহিনীর টিকে থাকার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

মহড়া শেষে কোম্পানি কমান্ডার কো মিং-পিন বলেন, হিমার্স ইউনিট তাদের কার্যকর যুদ্ধক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান আঘাত হানার অস্ত্র হিসেবে হিমার্স পরিচিতি লাভ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলের সৈকত ও কাদাময় সমতলভূমিগুলো সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে চীনা বাহিনীর অবতরণের সবচেয়ে সম্ভাব্য স্থান। কারণ অঞ্চলগুলো তাইওয়ান প্রণালির ওপারে সরাসরি চীনের মুখোমুখি অবস্থান করছে।

এই কারণে তাইওয়ান তার সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে হিমার্সের মতো দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ও শক্তিশালী অস্ত্রের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার হিমার্স তাইওয়ান প্রণালির অপর প্রান্তে অবস্থিত চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

তাইওয়ানের তৈরি থান্ডারবোল্ট-২০০০ লঞ্চারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। এর ফলে চীনা বাহিনী বন্দর ত্যাগ করার সময় কিংবা তাইওয়ানের উপকূলে অবতরণের চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব হবে। মহড়ার প্রথম দিনে থান্ডারবোল্ট ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়।

অন্যদিকে, তাইওয়ান সরকার জানিয়েছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু তাইওয়ানের জনগণের।