অল্প-স্বল্প নয়, বেশ বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার। অনেকটা ব্যঙ্গাত্মকভাবে শুরু হওয়া রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ মাত্র তিন সপ্তাহে দিল্লিতে অবস্থান জানান দিয়েছে, সঙ্গে কাঁপনও ধরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে মোদির মসনদ। ককরোচ জনতা পার্টি বা তেলাপোকা জনতা দল ‘আপাতত’ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একজন মন্ত্রীকে সরে যেতে বা সরিয়ে দিতে আন্দোলনে রয়েছে, কিন্তু তারা দলটির প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই জানান দিয়েছে যে তারা দু’একটি ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে রয়েছে তেমনটি নয়, বরং দলটি দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনে থাকছে, রাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার থাকছে। ককরোচ বা তেলাপোকা পার্টির হঠাৎ প্রতিষ্ঠালাভ ও বিপুল জনসমর্থন দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষমহলকে চিন্তায় ফেলেছে। কারণ, পার্টি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জোয়ারের মতো বাড়ে সমর্থন। দলটির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট চালুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৪০,০০০ জনেরও বেশি মানুষ এতে নিবন্ধিত হন এবং পরবর্তীতে এই সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দলটির ফলোয়ার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক মিলিয়নে পৌঁছায়। গত ১৬ মে পার্টি ঘোষণা পর ৭ জুন এ রিপোর্ট লেখার দিনে অর্থ্যাৎ মাত্র তিন সপ্তাহে তেলাপোকা পার্টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ফলোয়ার সংখ্যা ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফলে মোদি সরকারের শীর্ষকর্তাদের ঘুম অলরেডি হারাম হয়ে গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশের দৃষ্টান্তে উদ্বেগ
২০১৪ সালের পর থেকেই একচেটিয়া ক্ষমতা ভোগ করছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। চরম হিন্দুত্ববাদ ও উন্নয়নের রাজনীতির প্রচারণা চালিয়ে সুবিধা নিচ্ছে দলটি। কিন্তু শেষ লোকসভার নির্বাচন পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে তরুণদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অর্থ্যাৎ তরুণরা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির টোপ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে শুরু করেছে। তারা মনে করছে, নাগরিকদের অধিকার কোনো ধর্মের ভিত্তিতে হওয়ার কথা নয়, দেশের সব নাগরিকের অধিকার হবে সমান। ফলে সরকারের কর্তাব্যক্তিরা ধর্মীয়বিভাজনের রাজনীতির যে বীজ বপন করেছিলেন এবারের নির্বাচনে সেই বীজ ভালো ফলন দেয়নি। উল্টো দেশের তরুণরা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তরুণদের এতো বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মোদি সরকারের কল্পনায়ও ছিল না। সিজেপি’র এই গণজোয়ারে বিজেপি’র উদ্বেগের মূল কারণ হচ্ছে ভারতের প্রতিবেশি তিনটি দেশে খুবই অল্প সময়ের ব্যবধানে সরকার পতন হয়েছে তরুণদের আন্দোলনের মুখে। এই তিনটি দেশ হলো- শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপাল। ক্ষমতাসীন সরকারের চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে তরুণ ও যুবারা এই তিনদেশের সরকার পতন ঘটিয়েছেন। প্রতিবেশি এসব দেশগুলোর তরুণরা শুরুতে সরকার পতন আন্দোলন শুরু না করলেও শেষ পর্যন্ত আন্দোলন সরকার পতনে গড়ায়। ফলে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতিনির্ধারকরাও উদ্বিগ্ন এই জন্য যে, ওই তিন দেশের আদলে এখানেও যদি তরুণরা আরও বেশি সংগঠিত হয়ে যায়, তাহলে নাটকীয় অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। কারণ, অস্ত্র চালিয়ে কোনো দেশেই তরুণদের থামিয়ে দিতে পারেনি।
শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে আন্দোলন ও সরকার পতনে বড় ভূমিকার রাখা তরুণরা, এরা পরিচিতি পেয়েছেন ‘জেন-জি’ নামে। বেকারত্বের হতাশা ও সরকারের দুর্নীতি থেকেই এসব আন্দোলনের সূত্রপাত। প্রথমে ছোট ছোট মিছিল, বিক্ষোভ তারপর বড় সমাবেশ। এক সময় তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আর এই দাবানলেই দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশে সরকার পতন হয়। ভারতের ক্ষমতাসীন দলের উদ্বেগের মূল কারণ হচ্ছে, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের পর ভারতীয় তরুণরা কী সেই একই পথে হাঁটছে?
ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে
খুব বেশি আগের সময়কার কথা নয়, এই তো ২০২৬ সালের ১৫ মে’র ঘটনা। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “দেশে কিছু এমন তরুণ রয়েছে, যারা ককরোচের (আরশোলা) মতো; তারা না কোনো কর্মসংস্থান পায়; না নিজেদের কোনো পেশাগত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তাদের কেউ কেউ মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী হয়ে ওঠে; কেউ হয় আরটিআই (জঞও) অ্যাক্টিভিস্ট এবং এরপর তারা সবাইকেই আক্রমণ করা শুরু করে দেয়।” তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর পরদিন ১৬ মে অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ (সাবেক টুইটার) দেশের সকল “আরশোলাদের” জন্য একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি কৌতুকপূর্ণভাবে দলটিতে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা হিসেবে বেকার, অলস, দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটানো এবং পেশাগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতা থাকার শর্ত দেন। এসব শর্ত মাথায় রেখেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দলটির ফলোয়ার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক মিলিয়নে পৌঁছায়। দলে নাম নিবন্ধন করতে থাকেন হাজার হাজার সমর্থক। যা এখন দেশটির ক্ষমতাসীনদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের জেরেই নয়, ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষায় নানা অসংগতি এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সামনে আসে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
দিল্লিতে বিশাল ককরোচ সমাবেশ, টেনশনে আরও বেড়েছে
দিল্লির বুকে ক্ষমতাসীনদের বিপরীতে গত ৬ জুন বিশাল এক সমাবেশ হয়ে গেল। এটি ছিল খুবই শৃঙ্খল ও অহিংস এক মহাসম্মিলন। তরুণরা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসেন। আসার স্টাইলও ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অস্ত্র বা লাঠি নয়, হাতে বই, জাতীয় পতাকা আর ফুল নিয়ে আন্দোলনে নামেন হাজার হাজার তরুণ। কর্মসূচিতে বাধা দিতে আসা পুলিশকে ছুঁড়ে নয়, হাতে পৌঁছে দেন ফুল। সেই দৃশ্য দেশবাসীর নজর কাড়ে। বিপরীত দিক থেকে টেনশন বাড়ে সরকারের। ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার কোনো হিসাবই মেলাতে পারছে না সমাবেশে উপস্থিতির সংখ্যার। তরুণ ককরোচদের সামাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় গত ৬ জুন শনিবার। আর তার একদিন আগে ৫ জুন শুক্রবার থেকেই ‘যন্তর মন্তরের’ (সমাবেশ স্থল) বাইরে বিরাট ব্যারিকেড সাজিয়েছে রাখে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তরফ থেকে সমর্থকদের জানানো হল তাঁরা যেন ‘বই, জাতীয় পতাকা ও ফুল’ সঙ্গে নিয়ে আসেন। যেন নির্দেশনা ছিল ঠিক তেমনই হয়েছে। ৬ জুন ভারতের দিল্লিতে জেন-জি’রা এতো বিশাল জমায়েত করবে, তার কোনও আন্দাজই ছিল না সরকারের। ফলে সমাবেশে জনতার ঢল দেখে সরকারের টেনশন আরও বেড়েছে।
ভারতের প্রথম সাড়ির গণমাধ্যগুলো বলছে, ৬ জুনের সমাবেশে শুধু তরুণ ককরোচরাই নন, পড়ুয়া, তরুণ, চাকরিজীবীরা তো বটেই, অনেক মধ্যবয়সি, প্রবীণ নাগরিককেও দেখা গেল দিল্লির যন্তরমন্তরে। হাতে প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের দাবি একটাই, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সময় বেঁধে দিয়ে নিজেদের দাবিতে সরব হয় ‘তেলাপোকাদের দল’। সমাবেশের উদ্দেশ্যে ৫ জুন রাতে দিল্লিতে পৌঁছোন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সোজা চলে যান যন্তরমন্তরে। নিট-ইউজি, সিবিএসই, সিইউইটি, এসএসসি-তে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। সেই অনিয়মের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে ‘ককরোচ’ দল। শনিবার তাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আঁটোসাঁটো ছিল নিরাপত্তা। কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে টালবাহানা থাকলেও শেষপর্যন্ত দিল্লি পুলিশ পিছু হটে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি ছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে পা দিয়েই অভিজিৎ তাঁদের বিক্ষোভের দাবি আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। যন্তরমন্তরের বক্তৃতায় অভিজিৎ বলেন, ‘‘এটা দীর্ঘ সংগ্রাম। সমাজমাধ্যমে ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বরং আমাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে, পোস্ট মুছে দেওয়ার দিকে মনযোগ দিয়েছেন।’’ কর্মসূচি শেষে তিনি এ-ও জানান, ৬ জুন শনিবারের কর্মসূচি ছিল ‘ট্রেলার’। ভবিষ্যতে এই আন্দোলন শুধু দিল্লির রাস্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে।
আন্দোলনকারীদের অনেকের মুখেই ছিল তোলাপোকার মুখোশ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ফুল, জাতীয় পতাকা ও বইয়ের সঙ্গে কেউ কেউ আবার সংবিধান হাতে নিয়ে নেমেছিলেন প্রতিবাদে। সেই আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে যন্তরমন্তর গিয়েছিলেন রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে রাজপথে নামার আগে থেকেই তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। এ-ও জানিয়েছিলেন, অভিজিৎকে যদি গ্রেফতার করা হয় তবে তিনি অনশন শুরু করবেন।
বড় চ্যালেঞ্জের মুখে নরেন্দ্র মোদী সরকার
ককরোচ রূপে ভারতের তরুণদের একটি বিরাট অংশ যখন দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে ঠিক তখনই নরেন্দ্র মোদী সরকার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কারণ, দেশটিতে তরুণদের এই ধরনের আন্দোলন এটাই প্রথম। দেশটিতে এর আগে রাজনৈতিক দলের বাইরে তরুণদের নেতৃত্বে কোনো সমাবেশ বা বিক্ষোভ হয়নি। অবশ্য, রাজনৈতিক দল বা কৃষকদের অনেক আন্দোলন হয়েছে। তবে সেই সব আন্দোলনকে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ও অত্যন্ত সংবেদশীল। কারণ এই তরুণদের নেতৃত্বেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে সম্প্রতি সরকার পতন হয়েছে। যা মোদী সরকার খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছে বা জানে। তাই অন্য আন্দোলনের মতো তরুণদের দমন করতে চাইলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তেলাপোকা জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে তরুণরা এখন মোদী সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে। তাদের জোড়ালো দাবি হচ্ছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। এখন যদি সরকার তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার না করে তাহলে তরুণরা ছোট ছোট সমাবেশ বা বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে পারে। অন্যদিকে যদি সরকার তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করে তাহলে মোদী সরকারের দুর্বলতা সামনে চলে আসবে। এর সুযোগ নিতে শুরু করবে বিরোধীদলগুলো। তাছাড়া এই আন্দোলনেও পেছন থেকে তরুণদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে থাকবে তারা। এরই মধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিকমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছেন।
একই সঙ্গে তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুকও। এর আগে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক জানান, তিনি অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন যে এই আন্দোলনটি ভারতীয় তরুণদের কণ্ঠস্বর বহন করছে, কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, তার সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে তাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই। তারা অত্যন্ত দেশপ্রেমিক এবং দেশের উন্নয়নের জন্য ত্যাগ স্বীকার করছেন। ভারতের উত্তরাঞ্চলের রাজ্য সরকারগুলোতে মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি ভালো ফলাফল করলেও কেন্দ্রীয় সরকার অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। কারণ লোকসভায় বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। সংসদে যে কোনো সিদ্ধান্তের জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় জোটের দিকে। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করতে গিয়ে বড় ধাক্কা খায় মোদী সরকার। কারণ জোট তাতে সমর্থন দেয়নি। সব মিলিয়ে ককরোচদের নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছে মোদি সরকার।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন ও সকলকে আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যের পর গত ১৬ মে সিজেপির পথচলা শুরু। ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ (ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন) হিসাবে পথ চলা শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সামাজিকমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সিজেপি। তারাই ৬ জুন শনিবার দিল্লিতে প্রথম জনসমর্থনের জানান দিলেন।
শীর্ষনিউজ