ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে আরো বেশ কয়েকজন।
বুধবারের এ ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ফ্লাইট স্থগিত ও কিছু ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ।
দেশটির সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ভবন উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন, তবে তাদের পরিচয় বা আহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাউদ আবদুল আজিজ আল-ওতাইবি জানান, ‘শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন’ বিমানবন্দরের মূল যাত্রী টার্মিনাল লক্ষ্য করে আঘাত হানে, এতে ভবনের বড় ধরনের ক্ষতি হয় এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
দেশটির জেনারেল ডিরেক্টরেট অব সিভিল অ্যাভিয়েশন বিমানবন্দরে জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর করেছে বলে জানানো হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
হামলার আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেশম দ্বীপে হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ব্যর্থ হয় এবং কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়। তারা আরো জানায়, অঞ্চলজুড়ে মার্কিন বাহিনী ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করছে।
এ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরো বেড়েছে। হামলা-পাল্টা হামলায় হরমুজসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।
ইরান দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী জাহাজ ও আঞ্চলিক বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে।