ভারতের তরুণদের ক্ষোভ, বেকারত্ব, পরীক্ষা দুর্নীতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তৈরি হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপিকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল। প্রথমে এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ, তারপর ইনস্টাগ্রাম পেজ সরিয়ে দেওয়া, আর এবার বন্ধ হয়ে গেল সংগঠনের ওয়েবসাইটও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
শনিবার অভিজিৎ দাবি করেন, ‘সিজেপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, সরকারের সমালোচনা করলেই এখন চালানো হচ্ছে ডিজিটাল দমননীতি।’
তিনি বললেন, ‘সরকার তেলাপোকাকে এত ভয় পাচ্ছে কেন? আমাদের অপরাধ শুধু আমরা ভবিষ্যৎ চাইছি। কিন্তু আমাদের এত সহজে থামানো যাবে না।’
গত কয়েক দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। দেশের বেকার যুবক-যুবতী, পরীক্ষায় দুর্নীতির শিকার শিক্ষার্থীরা এবং ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করে। বিশেষ করে নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে লাখো মানুষ সিজেপির পিটিশনে সই করে বলে দাবি সংগঠনের।
অভিজিৎ দিপকের দাবি, তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সদস্যপদ নিয়েছিলেন এবং ৬ লাখ মানুষ শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে পিটিশনে সই করেছিলেন। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসরণকারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। যা বিজেপির সরকারি ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যার থেকেও অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্রের নির্দেশেই বন্ধ করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির এক্স একাউন্টটিও। আইবির দাবি, এই একাউন্টটি জাতীয় সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের কথায়, ‘এই একাউন্ট থেকে কোনো অন্যায় মন্তব্য করা হয়নি, উসকানিমূলক পোস্টও করা হয়নি। কিছু সামাজিক ইস্যুতে পোস্ট করা হয়েছে মাত্র।’
এই আন্দোলনের সূত্রপাত দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে। আইনজীবীদের ‘সিনিয়র’ মর্যাদা নিয়ে শুনানির সময় তিনি কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মন্তব্যের পর থেকেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে তরুণদের মধ্যে। মিম, ব্যঙ্গ এবং রাজনৈতিক পোস্টের মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের মতো নেতারাও। মানবাধিকার কর্মী প্রশান্ত ভূষণ এবং অঞ্জলি ভরদ্বাজও সরব হয়েছেন এই ইস্যুতে।
ডিজিটাল অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনও সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, ‘এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের চেষ্টা।’