ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রাশিয়ান কালাশনিকোভ হাতে অস্ত্র প্রদর্শন ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন একজন নারী। চলমান যুদ্ধে ইরানিদের প্রস্তুত রাখার জন্যই এমন অনুষ্ঠান ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি, দেশটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ও সরকারি সমর্থকরা মেশিনগান এবং রকেট লঞ্চারসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র হাতে সরাসরি প্রদর্শন করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে এসব অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে। ক্যামেরার সামনে, অস্ত্র ব্যবহারের কৌশল দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদ ও রাতের সমাবেশে তরুণ-তরুণীদেরও অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায়।

সবচেয়ে সমালোচিত অনুষ্ঠানটি ছিল রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ‘ওফোক’-এ প্রচারিত 'ওয়ার হেডকোয়ার্টার' শো। সেখানে এক উপস্থাপক প্রশিক্ষণের পর স্টুডিওতে রাখা একটি অস্ত্র দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকার ছবির দিকে গুলি চালান। বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
একই ধরনের আরেকটি দৃশ্যে একজন আইআরজিসি সদস্য নিষ্ক্রিয় কালাশনিকভ রাইফেল ব্যবহার করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবির দিকে নিশানা করেন। পরে উপস্থাপক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবির দিকে অস্ত্র তাক করে বলেন, 'আমি আশা করি এই গুলি একদিন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাবে।'
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি অবশ্য এসব অনুষ্ঠানকে সমর্থন করে বলেছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জনগণকে প্রস্তুত রাখতে এবং প্রতিরোধের বার্তা দিতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।
তবে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা এই প্রচারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, জাতীয় টিভিতে এ ধরনের অস্ত্র প্রদর্শন সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
কিছু সমালোচক বলছেন, এসব দৃশ্য আসলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও বিরোধীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের ভাবমূর্তির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।