যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলার জোর প্রস্তুতির খবরের মধ্যেই সোমবার (১৮ মে) তেহরান এই জবাব দেওয়ার কথা জানালো। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে এই তথ্য ও প্রস্তাবের আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের দাবিগুলোকে ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘অত্যধিক ও অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করলেও কূটনীতির পথ খোলা রেখেছে তেহরান। এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমরা গতকালই যেমনটি ঘোষণা করেছিলাম, আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো মার্কিন পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করে তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’
১৭ মে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে একটি পাঁচ দফার তালিকা পেশ করেছে। যার মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো, ইরানকে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্র সচল রাখতে হবে এবং তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
এর বিপরীতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর জন্য ইরানের পক্ষ থেকেও কিছু পূর্বশর্ত দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধাবসান, ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানি মুখপাত্র আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কর্মপদ্ধতি তৈরির লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছেন ইরানি নেতারা। গত সপ্তাহে মাস্কটে এই বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দুই দেশের যোগাযোগ এখনও চলছে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের কোনও দেশের সঙ্গেই আমাদের শত্রুতা নেই এবং আমরা চিরকাল প্রতিবেশী হয়েই থাকব। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অঞ্চলের সব দেশকে আমরা বহিরাগত পক্ষগুলোর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
দুই দেশের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আমি আশাবাদী।’ এই ফলাফল নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদ নতুন দফার আলোচনা আয়োজনের জন্য ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করছে বলেও তিনি জানান।
শান্তি আলোচনার এই আবহের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফোনালাপ এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরুর গুঞ্জনে বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’-এ একটি জরুরি বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে যে তারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘটিয়েছে, তবে একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে মার্কিন কর্মকর্তারা ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নামে ইরানের ওপর নতুন হামলার পরিকল্পনা করছেন। পেন্টাগন ইতোমধ্যে সম্ভাব্য এই হামলার জন্য ইরানের বেশ কিছু স্থাপনা ও স্থান চিহ্নিত করে রেখেছে বলে জানা গেছে।