Image description

পুলিশ জানিয়েছে, ভারতের দিল্লির উপশহর গ্রেটার নয়ডায় নিজের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত দীপিকা নাগরের পরিবারের দাবি, যৌতুকের জন্য তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল।

সেন্ট্রাল নয়ডার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) শৈলেন্দ্র কুমার সিং বলেন, ‘গতকাল রাতে খবর পাওয়া যায়, এক নারী ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন।

দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। এই খবর পেয়ে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, ‘ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ঋত্বিক তানওয়ার এবং শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

’ দীপিকার বাবার করা অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের যৌতুকে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন অসন্তুষ্ট ছিলেন।

২৫ বছর বয়সী ওই নারীর বাবা সঞ্জয় নগর দাবি করেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিয়ের সময় তিনি নগদ ১১ লাখ রুপি, ৫০ লাখ টাকার সোনা, আসবাবপত্র এবং একটি স্করপিও গাড়ি দিয়েছিলেন। তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন অতিরিক্ত ৫০ লাখ রুপি যৌতুক এবং একটি ফরচুনার গাড়ি দাবি করেছিল।

গতকাল রবিবার দীপিকা কাঁদতে কাঁদতে তার পরিবারকে ফোন করে জানান, তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর ও গালাগাল করছে। জানা গেছে, দীপিকার বাবা কয়েকজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন এবং বিবাদটি মিটমাট করার চেষ্টা করেছিলেন।

পরে পরিবার খবর পায়, দীপিকা ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

দীপিকার বাবা সঞ্জয় নগর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই জানোয়ারগুলো গত রাতে ওকে মেরে ফেলেছে। যৌতুকের লোভে ওরা ওকে হত্যা করেছে। গত ১০ মাস ধরে ও আমাদের ওর দুর্দশার কথা অনবরত বলে আসছিল, কিন্তু আমরা ওকে বোঝানোর চেষ্টা করে গেছি। তবু তাতে ওদের বিন্দুমাত্রও কিছু হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গতকালও কথা বলেছিলাম। আমি গতকালও ওর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। আমরা বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাত সাড়ে ১২টায় একটি ফোন পাই। ওর শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ওকে হত্যা করার পর ওরা ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে।’

নিহত দীপিকার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ওর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ওর নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।