Image description

বৃটেনের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যানজেলা রেইনার’কে ‘হিজ ম্যাজেস্টি রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস’ (এইচএমআরসি) তার কর সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ইচ্ছাকৃত অনিয়ম বা অবহেলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি আবারও লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে ফিরতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান। রেইনার ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০,০০০ পাউন্ড স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ করেছেন, যা তিনি প্রথমে কম হারে দিয়েছিলেন। তবে এইচএমআরসি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা আরোপ করা হয়নি এবং কর ফাঁকির কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

 

এক সাক্ষাৎকারে রেইনার বলেন, পুরো ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছে। বিশেষ করে তার প্রতিবন্ধী সন্তানের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ হওয়ায় তিনি কষ্ট পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এমন ধারণা তৈরি করেছিল যেন তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করছেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে নয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের পর থেকে তার কর সংক্রান্ত তদন্ত বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বড় চাপ তৈরি করেছিল। এখন সেই তদন্ত শেষ হওয়ায় তিনি আবারও শীর্ষ রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন।

রেইনার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কোনো নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা হলে তিনি অংশ নিতে পারেন এবং বলেছেন, লেবার পার্টির সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তিনি দলের সহকর্মীদের ক্ষোভ বুঝতে পারছেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের উচিত নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবা। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার এই পদক্ষেপ লেবার পার্টিতে দ্রুত নেতৃত্ব সংকট তৈরি করতে পারে। দলীয় বামপন্থী শিবিরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রেইনার ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নামও আলোচনায় রয়েছে।

রেইনার বলেন, তিনি কোনো ক্যু বা দলীয় অভ্যুত্থান শুরু করবেন না। তবে দলের ভেতরে পরিবর্তনের জন্য নিজের ভূমিকা পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, নেতৃত্বের বিষয়টি ব্যক্তিগত উচ্চাকাক্সক্ষা নয়, বরং দলের ভবিষ্যৎ ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের বিষয়।