ইরানে আবারও হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি যদি কোনো কারণে ভেঙে যায় তাহলে এ হামলা শুরু করবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
এনবিসি নিউজের বরাতে বুধবার (১৩ মে) সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে ওয়াশিংটন এই অভিযানের নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ থেকে বদলে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ রাখতে পারে।
মূলত কংগ্রেসের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আইনি সময় পেতে এই কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদক্ষেপে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার জন্য আরও ৬০ দিন সময় পেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, সামরিক যুদ্ধ বা অভিযান শুরু করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়। যদি কংগ্রেস এই অভিযানের অনুমোদন না দেয়, তবে ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
৪০ দিন লড়াই চলার পর অপারেশন এপিক ফিউরি স্থগিত করা হয়েছিল। পেন্টাগনের যুক্তি হলো, যেহেতু যুদ্ধবিরতির ফলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ ছিল, তাই প্রশাসন এখনও ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ দ্বারা নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা অতিক্রম করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে তা সম্ভবত নতুন নাম ও নতুন লক্ষ্য নিয়ে শুরু হবে। স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের মধ্যে তার লক্ষ্য অর্জন করেছে।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর তাদের অবরোধ আরও কঠোর করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প এখনও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেননি। তবে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই বিষয়টি এখনও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবরোধের এই কৌশল বড় ধরনের যুদ্ধে না গিয়ে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার উদ্দেশ্য।