Image description

আস্থাভোটে জয়ী হয়ে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন থালাপতি বিজয়। বুধবার রাজ্য বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আস্থাভোটে তার পক্ষে ভোট দেন ১৪৪ আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২২টি, আর পাঁচজন ভোটদানে বিরত থাকেন।

 

গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ঐতিহাসিক জয় পেয়ে রাজ্যের দীর্ঘদিনের দুই প্রধান শক্তি ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ৬২ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দেয়।

 

আস্থাভোটের ফল ঘোষণার পর বিজয় বলেন, ‘হুইসেল ইতিহাস বদলে দিয়েছে।’ টিভিকের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘হুইসেল’।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলব। আমরা এমন এক সরকার, যা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।

 

ভোটাভুটির আগে ডিএমকে তাদের ৫৯ জন বিধায়ক নিয়ে ওয়াকআউট করে। অন্যদিকে এআইএডিএমকের নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

 

তবে বড় চমক আসে এআইএডিএমকের ভেতর থেকেই। দলটির ২৪ জন বিধায়ক দলীয় প্রধান ইডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন। এতে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি প্রকাশ্যে চলে আসে।

 

এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানি। গত সপ্তাহ থেকেই তাদের নেতৃত্বে একটি অংশ বিজয়কে সমর্থনের দাবি জানিয়ে চাপ সৃষ্টি করছিল।

 

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটির কয়েকজন বিধায়ক পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান নিয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও টিভিকেকে সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা চালান।

 

শানমুগাম সাংবাদিকদের বলেন, টানা চারটি নির্বাচনী পরাজয়— তিনবার ডিএমকের কাছে এবং সর্বশেষ টিভিকের কাছে দলের বর্তমান অবস্থাকে সংকটময় করে তুলেছে।

 

তিনি দাবি করেন, দল ভাঙার কোনো ইচ্ছা তার নেই। তবে এই অবস্থান এখন এআইএডিএমকের ভেতরে নতুন ক্ষমতার লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

এদিকে বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এআইএডিএমকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দলটি অভিযোগ করেছে, শানমুগাম, ভেলুমানি ও আরেক বিদ্রোহী নেতা টিভিকের কাছে মন্ত্রীত্বের পদ চেয়েছিলেন।