Image description

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হওয়ার পরপরই রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। রাজ্যের নতুন মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকে। আর এই নিয়োগকে ঘিরেই উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তকে 'চরম নির্লজ্জতা' বলে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং বিজেপির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে। উল্লেখ্য, মনোজ আগরওয়াল সেই ব্যক্তি যিনি সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তাকে মুখ্য সচিবের মতো সর্বোচ্চ আমলাতান্ত্রিক পদে বসানোয় তৃণমূল দাবি করেছে যে, নির্বাচনের সময় তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন না বরং বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন।

তৃণমূল নেতা সাকেত গোখলে সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ লিখেছেন, "যিনি নির্বাচন পরিচালনা করলেন, তাকেই বিজেপি সরকার মুখ্য সচিব বানালো। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন এখন ভোট চুরির বিষয়টি আর গোপন রাখছে না। এটি নির্লজ্জতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।" সংসদ সদস্য সাগরিকা ঘোষও এই নিয়োগকে 'পুরস্কার' হিসেবে বর্ণনা করে ২০২৬ সালের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই ১৯৯০ ব্যাচের এই আইএএস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তারা কোনো নিয়ম ভঙ্গ করেনি।

মনোজ আগরওয়াল আগামী ৩১ জুলাই অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও, ধারণা করা হচ্ছে সরকার তার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে নিতে পারে। এদিকে, নির্বাচনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকেও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

শীর্ষনিউজ/