Image description

রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ 

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি বলে মনে করেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত চার দিনের এই জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৬৬ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে- সে বিষয়ে ট্রাম্প পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেননি। এই মতের পক্ষে প্রতি তিনজন রিপাবলিকান সমর্থকের একজন এবং প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সমর্থকই রয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরু হয়। দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিছুটা শান্ত হলেও, উভয় পক্ষের শান্তি প্রস্তাবের মধ্যেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।

যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হয়েছে। যদিও মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চে পরিচালিত একই ধরনের জরিপে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ।

এদিকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সামান্য বেড়েছে। বর্তমানে তার জনপ্রিয়তার হার ৩৬ শতাংশ, যা এপ্রিলের শেষ দিকের জরিপের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের ৪০ শতাংশ জনপ্রিয়তার নিচেই রয়েছে তার অবস্থান।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নতুন মেয়াদ শুরু করার সময় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ছিল ৪৭ শতাংশ। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু না কিছু দায় রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক রিপাবলিকান সমর্থকও রয়েছেন।

কোন রাজনৈতিক দল বেশি দায়ী- এমন প্রশ্নে ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা রিপাবলিকানদের দোষারোপ করেছেন। বিপরীতে ২৭ শতাংশ বলেছেন ডেমোক্র্যাটরা বেশি দায়ী।

প্রতি পাঁচজনের চারজনই মনে করেন, সামনে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিজেদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে রিপাবলিকানরা। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্য তাদের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, যদি গ্যাসের দাম বর্তমান অবস্থায় থাকে, তাহলে প্রতি ১০ জনের প্রায় তিনজন তাদের গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ পরিকল্পনা কমিয়ে দিতে পারেন। অনেকে ভ্রমণ বাতিল বা কম দূরত্বে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।

যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম কমে আসবে বলে ট্রাম্প বারবার আশ্বাস দিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবে তা দ্রুত সম্ভব নাও হতে পারে।

সংঘাতে কোন পক্ষ এগিয়ে আছে- এ নিয়েও মার্কিন জনগণের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। জরিপে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে প্রতি সাতজনের একজন মনে করেন, ইরান এগিয়ে আছে। বাকিরা বলেছেন, তারা নিশ্চিত নন অথবা কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই।