ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তে আজ সোমবার দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসন ভোটের মুখোমুখি হতে পারেন। এটি তার একসময়কার মিত্র, বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের জন্য রাজনৈতিক বিজয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এতে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এ খবর দিয়েছে দ্য স্ট্রেইটস টাইমস। ফিলিপাইনের ৩১৮ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এরপর বিষয়টি সিনেটে যাবে। সেখানে ২৪ সদস্যের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পেলে সারা দুতের্তে দোষী সাব্যস্ত হবেন। সিনেটে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি আজীবনের জন্য রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হবেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ হারাবেন।
প্রতিনিধি পরিষদের ডেপুটি স্পিকার জ্যানেট গ্যারিন জানিয়েছেন, ১১ মে সারা দুতের্তের অভিশংসন নিয়ে ভোট হবে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। কংগ্রেসম্যান টেরি রিডন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের পক্ষে কমপক্ষে ২১৫টি ভোট রয়েছে। সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং প্রেসিডেন্ট মার্কোসকে হত্যার হুমকি দেয়া। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের মেয়ে সারা দুতের্তে জনমত জরিপে ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার তাকে অভিশংসন করা হয়। কিন্তু ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্ট প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে অভিযোগটি বাতিল করে দেয়। তার বিরুদ্ধে নতুন অভিশংসন উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দেশটি বড় ধরনের সরকারি দুর্নীতি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে সৃষ্ট তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় টালমাটাল।
মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি গত সপ্তাহে জানিয়েছে, মহামারি পরবর্তী সময় বাদ দিলে ২০০৯ সালের পর এটাই তাদের সবচেয়ে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও সারা দুতের্তে ২০২২ সালের নির্বাচনে একজোট হয়ে জয় পান। কিন্তু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তাদের জোট ভেঙে যায়। এরপর থেকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফিলিপাইনের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের বিরুদ্ধেও একটি অভিশংসনের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে বিচারবিষয়ক কমিটি অভিযোগকে যথেষ্ট ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তা খারিজ করে দেয়। ফিলিপাইনে সরকারি কর্মকর্তাদের অভিশংসনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ এস্ট্রাদা এবং প্রয়াত প্রধান বিচারপতি রেনাতো কোরোনা উল্লেখযোগ্য।