Image description

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার (৪ মে) প্রণালির কাছাকাছি ইরানের উপকূলের পাশে ছোট নৌযান থেকে কার্গো জাহাজটিতে একাধিকবার আঘাত করা হয়।

ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড কিংডম মেরিটটাইম ট্রেড অপারেশনের (ইউকেএমটিও) বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, ইরানের সিরিক উপকূলের অদূরে হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্ত জাহাজটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

হামলার পর জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

তবে ইরান আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল যে কোনো জাহাজ যদি প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে চায়, তবে তাদের ‘টোল’ দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এটি প্রমাণ করতে হবে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি পারস্য উপসাগরের দিকে উত্তরমুখী ছিল। অর্থাৎ এটি প্রণালি ছেড়ে বের হচ্ছিল না, বরং ভেতরে প্রবেশ করছিল।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে অন্তত দুই ডজন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২২ এপ্রিলের পর এটিই প্রথম হামলা।

বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক হুমকি ও আক্রমণের মাধ্যমে তেহরান কার্যত বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলপথটিকে অচল করে দিয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের নৌবাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে, তবুও ইসলামিক রেভুলুশনারি গার্ড কর্প (আইআরজিসি) এখনো ছোট টহল নৌযানের একটি শক্তিশালী বহর ধরে রেখেছে, যা প্রণালির নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো ছোট নৌযান যদি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে গুলি করে ধ্বংস করতে হবে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ একসময় এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অনিশ্চিত শান্তি আলোচনার ফল যাই হোক না কেন, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে।

ইরানের পার্লামেন্টের উপ-স্পিকার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আমাদের অবস্থান থেকে আমরা পিছিয়ে আসব না। এটি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।

অন্যদিকে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। শান্তি চুক্তি না হলে পুনরায় বিমান হামলারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।