Image description

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে জার্মানি থেকে প্রায় ৫,০০০ মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন। শুক্রবার (১ মে) পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেয়ার্জের কড়া সমালোচনার পরই এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিল যুক্তরাষ্ট্র। মেয়ার্জ গত বুধবার মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমানিত’ করছে এবং এই সংঘাতকে তিনি ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের মতো ‘বিপজ্জনক চোরাবালি’র সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, এই যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জার্মানির অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে বলেছেন, যেসব দেশ ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সহায়তা করছে না, তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায় আমেরিকার নয়। এর আগে তিনি মেয়ার্জকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার কাজে হস্তক্ষেপ না করে মেয়ার্জের উচিত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বেশি মনোযোগ দেওয়া।

পেন্টাগনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরেও কিছুটা বিস্ময় তৈরি হয়েছে। তবে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জানিয়েছেন, তারা আগে থেকেই এমন কিছুর আশঙ্কা করছিলেন। তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোকে এখন থেকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে এবং জার্মানি ইতিমধ্যে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিতর্কিত এই ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় মিত্রদের ফাটল এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত মূলত চ্যান্সেলর মেয়ার্জের সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি পাল্টা ব্যবস্থা।

নর্ডিক এবং বাল্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ন্যাটো মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ‘জার্মানিতে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বোঝার জন্য আমরা তাদের সাথে কাজ করছি। এই সমন্বয়টি ইউরোপের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আমাদের সম্মিলিত নিরাপত্তার দায়িত্বের একটি বড় অংশ নিজেদের কাঁধে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে এনেছে। গত বছর হেগ-এ অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে মিত্র দেশগুলো তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার ফলে ইতোমধ্যে আমরা অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি। ন্যাটোর ভেতরে একটি শক্তিশালী ইউরোপ গড়ার এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আমাদের প্রতিরক্ষা ও শত্রুকে প্রতিহত করার সক্ষমতার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’