আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানকে টোল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সৌদি আরব, আমিরাতসহ গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্যভুক্ত ছয় দেশ। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা স্থবির হওয়ায় তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জবাবে ইরান বলেছে, দুঃসাহস দেখালে রণক্ষেত্রে নতুন অস্ত্র-কৌশল দেখবে শত্রুপক্ষ। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানকে টোল কিংবা কোনো প্রকার ফি দিতে রাজি নয় উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং ওমান।
জেদ্দায় জিসিসির বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই জানান, এই জোটের সদস্য রাষ্ট্ররা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবৈধ টোল আদায়কে প্রত্যাখ্যান করছে। ‘ভদ্র সাজার দিন শেষ’ উল্লেখ করে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। সেখানে তার পেছনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ছবির ওপর বড় অক্ষরে লেখা- ‘নো মোর মি. নাইস গাই!’ (ভদ্র সাজার দিন শেষ!)। ছবির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্রমুক্ত চুক্তির পথে হাঁটতে ব্যর্থ হচ্ছে। তেহরানকে সতর্ক করে তিনি লেখেন, ইরানকে দ্রুত বুদ্ধিমান হতে হবে। ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী বলছে, নতুন কোনো পদক্ষেপ নিলে শত্রুপক্ষকে সম্পূর্ণ নতুন অস্ত্র, কৌশলে কঠিন জবাব দেওয়া হবে। ইরানের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের জন্য পরিস্থিতি এখনো যুদ্ধকালীন। পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। শত্রু যদি নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে রণক্ষেত্রে তাদের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সরঞ্জাম ও পদ্ধতির কঠিন জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমাদের ব্যাপক প্রচেষ্টার কারণে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, যা এখনো চলছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। এদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ দীর্ঘায়িত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানির ওপর চাপ বজায় রাখতে দেশটির বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। তবে গত ৭২ ঘণ্টায় অন্তত ৫২টি ইরানি জাহাজ মার্কিন নৌ অবরোধ ভেঙেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ। জাহাজগুলোর মধ্যে ৩১টি তেলবাহী ট্যাংকার ও ২১টি পণ্যবাহী জাহাজ।
ইরানের ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা : ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অবৈধ তহবিল স্থানান্তর হয়েছে। আর এসব অর্থ ইরানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করেছে।