জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনে প্রতিযোগিতা ক্রমেই জমে উঠছে। চারজন শীর্ষ প্রার্থী—মিশেল বাচেলেত, রাফায়েল গ্রসি, রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং ম্যাকি সাল—সম্প্রতি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক এই প্রক্রিয়াকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কাজের সাক্ষাৎকারগুলোর একটি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নির্ধারিত হয়নি।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ১ জানুয়ারি শেষ হবে। তার উত্তরসূরি নির্বাচনে এখনো নতুন প্রার্থীরাও যুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রার্থীদের অগ্রাধিকার
চার প্রার্থীই বৈশ্বিক শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার—জাতিসংঘের মূল তিনটি স্তম্ভকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন। তারা ইরান, গাজা, ইউক্রেন ও সুদানের মতো সংকটপূর্ণ অঞ্চলে সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বাচেলেত বলেন, জাতিসংঘকে সংকট প্রতিরোধে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি বাড়াতে হবে।
গ্রসি মনে করেন, বিশ্বে বিভাজন বাড়ায় জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, যা কাটাতে শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন।
গ্রিনস্প্যান বলেন, জাতিসংঘকে ঝুঁকি নিতে শিখতে হবে এবং নৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে হবে।
সাল নিজেকে “সেতুবন্ধনকারী” হিসেবে তুলে ধরে বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন।
বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ
কিছু প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বাচেলেতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আইনপ্রণেতা তার নারী অধিকার বিষয়ক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, সাল দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, যদিও তার প্রার্থিতা ঘিরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে।
সামনে কী?
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য, বিশেষ করে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। পরে ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ তা অনুমোদন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখনো কোনো প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। তবে অনেকেই মনে করছেন, এবার এমন একজন নেতৃত্ব দরকার, যিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং বৈশ্বিক সংকটে জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা দিতে সক্ষম হবেন।
তথ্যসূত্র: এপি