শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটনের বাইরে গুলির ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট আগে কোল টমাস অ্যালেন তার সব পরিকল্পনা লিখে রেখেছে। ৩১ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা অ্যালেনকে হেফাজতে নেয়া হয় হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ডিনারের কাছে গুলির পর। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ২৫০০ অতিথি সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। সেই বলরুমে পৌঁছানোর আগেই টমাস অ্যালেনকে নিরাপত্তা চৌকিতে থামিয়ে দেয়া হয়।
কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে অ্যালেন তার পরিবারের সদস্যদের কাছে একটি ম্যানিফেস্টো পাঠায়। পরে পরিবারের একজন সদস্য সেটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। অনলাইনে আংশিকভাবে পাওয়া এই নথিতে তার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল্যায়ন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নথিটির শেষে স্বাক্ষর ছিল এভাবে: “কোল ‘কোল্ডফোর্স’ ‘ফ্রেন্ডলি ফেডারেল অ্যাসাসিন’ অ্যালেন।”
কেন সে এই কাজ করেছে
ম্যানিফেস্টোতে অ্যালেন দীর্ঘভাবে ব্যাখ্যা করেছে কেন সে তার কাজকে ন্যায্য মনে করেছে। সে লিখেছে, ‘অন্য গাল বাড়িয়ে দেয়া তখনই প্রযোজ্য, যখন তুমি নিজে নিপীড়িত। আমি সেই ব্যক্তি নই, যাকে আটক শিবিরে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি সেই জেলে নই, যাকে বিচার ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে। আমি কোনো স্কুলশিশু নই, যে বিস্ফোরণে মারা গেছে, বা ক্ষুধায় কষ্ট পাওয়া শিশু, বা এই প্রশাসনের অপরাধীদের দ্বারা নির্যাতিত কোনো কিশোরী। অন্য কেউ নিপীড়িত হলে চুপ থাকা খ্রিস্টান আচরণ নয়; এটি নিপীড়কের অপরাধে অংশীদার হওয়া।’
সে আরও লিখেছে, ‘আমি আর কোনো পেডোফাইল (শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নকারী), ধর্ষক ও বিশ্বাসঘাতককে আমার হাত দিয়ে তার অপরাধ ঢাকতে দেব না।’
অ্যালেন কীভাবে হামলা চালাতে চেয়েছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেছে। সে লিখেছে, হতাহতের সংখ্যা কমাতে আমি স্লাগের বদলে বাকশট ব্যবহার করব (যাতে দেয়াল ভেদ কম হয়)। প্রয়োজনে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে এখানে উপস্থিত অধিকাংশ মানুষের মধ্য দিয়েই যেতে পারি (কারণ তারা এমন একজনের বক্তব্য শুনতে এসেছে, যাকে আমি পেডোফাইল, ধর্ষক ও বিশ্বাসঘাতক মনে করি), তবে আমি সত্যিই চাই না যে পরিস্থিতি সেখানে পৌঁছাক।
ম্যানিফেস্টোতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের টার্গেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাতে পদমর্যাদা অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। তবে সে বিশেষভাবে কাশ প্যাটেল’কে এই তালিকা থেকে বাদ দেয়। সে লিখেছে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা (কাশ প্যাটেল ছাড়া): তারা লক্ষ্যবস্তু, উচ্চ পদ থেকে নিম্ন পদ অনুযায়ী অগ্রাধিকার পাবে। অ্যালেন দাবি করেছে, সে একাধিক অস্ত্র নিয়ে সহজেই হোটেলে ঢুকতে পেরেছিল। সে লিখেছে, হোটেলে ঢোকার সময় যে বিষয়টি প্রথম চোখে পড়ে, তা হলো অহংকার। আমি একাধিক অস্ত্র নিয়ে ঢুকলাম, কিন্তু কেউ ভাবল না যে আমি হুমকি হতে পারি। সে আরও বলে, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা পুরোটা বাইরে কেন্দ্রীভূত- প্রতিবাদকারী ও আগতদের দিকে নজর। কিন্তু কেউ ভাবেনি, কেউ যদি আগের দিনই ঢুকে পড়ে তাহলে কী হবে। এই স্তরের অযোগ্যতা অবিশ্বাস্য এবং আমি আন্তরিকভাবে আশা করি ভবিষ্যতে এটি ঠিক করা হবে। সে আরও যোগ করে, আমি যদি একজন ইরানি এজেন্ট হতাম, একজন আমেরিকান নাগরিক না হয়ে, তাহলে এখানে বড় অস্ত্রও আনতে পারতাম কেউ টেরই পেত না। সত্যিই অবিশ্বাস্য।
ম্যানিফেস্টোর শেষ অংশে অ্যালেন তার মানসিক অবস্থার কথাও লিখেছে। সে লিখেছে, যদি কেউ জানতে চায় এমন কিছু করতে কেমন লাগে- এটা ভয়ংকর। আমার বমি করতে ইচ্ছে করছে; আমি কাঁদতে চাই- যে সব কাজ আমি করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আর কখনো পারব না, যাদের বিশ্বাস আমি ভেঙে দিয়েছি তাদের জন্য। এই প্রশাসন যা করেছে তা ভাবলে আমার ভেতরে প্রচণ্ড রাগ জন্মায়।