ভারতে একদিকে যখন বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও আর্থিক বৈষম্য বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই দ্রুত বাড়ছে অতি ধনী মানুষের সংখ্যা—এমনই চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা নাইট ফ্র্যাঙ্ক-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
২০২৬ সালের ‘ওয়েলথ রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৭ জন অতি ধনী ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। এই তালিকায় ভারত বিশ্বে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতে অতি ধনীর সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২৫ হাজার ২১৭ জনে পৌঁছাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি— বর্তমান সরকারের আমলে দেশে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি ও সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় বহু মানুষ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এর ফলে সমাজের একটি বড় অংশ যখন আর্থিক চাপে পড়ছে, তখন অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে, রিপোর্টটিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিভিন্ন নীতির ফলেই দেশে বিনিয়োগ ও সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, করপোরেট খাতে কর ছাড় ও নীতিগত সুবিধা দেওয়ার ফলে এই বৈষম্য আরো বেড়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের উপর পরোক্ষ করের চাপ কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দেখা যায়নি।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ সতর্ক করে বলেছেন, বৈষম্য যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে তা ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে।