Image description

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়া সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে লিমনের সাথে নিখোঁজ হওয়া অপর বাংলাদেশি ছাত্রী নাহিদা বৃষ্টির (২৭) সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে আই-২৭৫ নর্থ রোডের ব্রিজের পাশে একটি মরদেহের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চলার কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাস্তা স্বাভাবিক হয় এবং ২টার দিকে মরদেহটি নিখোঁজ জামিল লিমনের বলে নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ।

লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় একটি ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স’ (পারিবারিক সহিংসতার) কল পায় পুলিশ। কলটি ছিল লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়ি থেকে। পুলিশ সেখানে পৌঁছালে হিশাম ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। বারবার আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেন। পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি ঘেরাও করলে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটের দিকে হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানান, প্রাথমিক তদন্তে হিশাম একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত হিশাম ইউএসএফ-এর ছাত্র নন, তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে জামিল লিমনের সাথে রুমমেট হিসেবে বসবাস করতেন।

গ্রেপ্তারকৃত হিশামের বিরুদ্ধে প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— পারিবারিক সহিংসতা ও প্রহার, কাউকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা, কারও মৃত্যু সংবাদ পুলিশকে না জানানো এবং বেআইনিভাবে মৃতদেহ সরানো বা নাড়াচাড়া করা।

জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার ও সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হলেও গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ থাকা অপর শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির খোঁজ এখনো মেলেনি। নাহিদাকে শেষবার ওই দিন সকাল ১০টায় ইউএসএফ ক্যাম্পাসের এনইএস ভবনের সামনে দেখা গিয়েছিল। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নিহত জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি গবেষণারত ছিলেন।