Image description

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই বড়সড় রাজনৈতিক দাবি সামনে আনলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার দাবি, প্রথম দফায় হওয়া ১৫২টি আসনের মধ্যে কমপক্ষে ১১০টি আসনে জয় নিশ্চিত বিজেপির। একই সঙ্গে তিনি জানান, দ্বিতীয় দফার ভোট (২৯ তারিখ, ১৪২ আসন) শেষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়েও আত্মবিশ্বাসী তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হুগলির বলাগড়ে জনসভা থেকে শাহ বলেন, প্রথম দফার ভোটের প্রবণতাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে। তার কথায়, উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জেও বিজেপির পক্ষে প্রবল জনসমর্থনের ঢেউ দেখা যাচ্ছে।

এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও দেন শাহ। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একজন বাংলা মিডিয়ামে পড়া বাঙালিকেই সামনে আনবে। এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।

শুধু নির্বাচন ফল নয়, দুর্নীতির ইস্যুতেও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। শাহ অভিযোগ করেন, বাংলায় ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে সেই দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে আনা হবে।

এছাড়াও ভোট ঘিরে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২৯ তারিখ ভোটারদের স্পর্শ করলে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হবে। তার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়েও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন শাহ। তার অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যের যুবকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এবং গরিবদের রেশন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্তে কড়া নজরদারি চালিয়ে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে এবং যারা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকেও সরাসরি নিশানা করেন শাহ। তিনি বলেন, মমতাকে টাটা (বিদায় জানালে/ভোটে হেরে গেলে) করলে সিন্ডিকেটওয়ালাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করা হবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে গুন্ডারাজ চলছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে।

প্রথম দফার ভোটের পরেই এমন আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যের নির্বাচনি আবহকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এখন নজর দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস