যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল (পিএইচডি) শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থাকে ‘বিপজ্জনক’ বা ‘বিপন্ন’ (Endangered) হিসেবে চিহ্নিত করেছে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়।
নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন ২৭ বছর বয়সী নাহিদা বৃষ্টি এবং ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন।
নতুন কিছু তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা মনে করছেন, তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা এই বিশেষ শ্রেণিবিন্যাসের দাবি রাখে। বৃষ্টি এবং লিমনের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা অবিলম্বে ৮১৩-২৪৭-৮২০০ নম্বরে যোগাযোগ করে শেরিফ কার্যালয়কে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
পুলিশ ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সবশেষ তাঁদের দুজনকে দেখা গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা দুজন একসঙ্গে থাকতে পারেন। নিখোঁজ জামিল লিমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছেন। তাঁকে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাঁর বাসায় দেখা যায় এবং এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিকে একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভারনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিংয়ে শেষবার দেখা যায়। লিমনের বাসা থেকে বৃষ্টির সর্বশেষ অবস্থানস্থল প্রায় ১০ মিনিটের দূরত্বে এবং তাঁরা দুজন বন্ধু বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার বিকেল ৫টার কিছু আগে তাঁদের এক পারিবারিক বন্ধু যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশকে জানালে তদন্ত শুরু হয় এবং তাঁদের তথ্য ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, ‘লিমন ও বৃষ্টির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কও ছিল। তারা ভবিষ্যতে একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করছিলেন, তবে এমনভাবে হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছিলেন না।’ তবে বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, ‘আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে সক্রিয়ভাবে সম্পর্কে ছিলেন না।’
তদন্তে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার দিন বৃষ্টি তাঁর ল্যাবে ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও খাবারের বক্স রেখে গিয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে শুধু পার্স ও মোবাইল ফোন ছিল।
অন্যদিকে, লিমন বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হলেও তাঁর পাসপোর্ট বাসায় পাওয়া গেছে। পরিবার জানায়, লিমনের ফোনের শেষ অবস্থান বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তাঁর বাসার আশপাশে এবং বৃষ্টির ফোন বিকেল ৫টার দিকে ক্যাম্পাস এলাকায় শনাক্ত হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা কেউই এমনভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে থাকার মতো মানুষ নন। এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা এই ঘটনায় এফবিআইয়ের সম্পৃক্ততা চেয়েছে এবং আইসিই নিশ্চিত করেছে যে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী তাদের হেফাজতে নেই।