ভারতে মোদি সরকার নারী আসন সংরক্ষণ বিল পাস করানোর জন্য বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও তড়িঘড়ি বিশেষ অধিবেশন ডেকে লোকসভায় পেশ করেছিল। কিন্তু বড় ধাক্কা খেয়েছে সরকার পক্ষ। পর্যাপ্ত সমর্থন না মেলায় লোকসভায় পাস হল না নারী আসন সংরক্ষণ ও লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার পক্ষ। শুক্রবার সন্ধ্যার ভোটাভুটিতে বিলটি পাস করাতে ব্যর্থ হবার পর মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা।
লোকসভায় বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০ টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে যোগ দেন। বিল পাসে প্রয়োজন ছিল ৩৫৩ টি ভোট। যা পায়নি সরকার পক্ষ।
নারী আসন সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার অভিযোগ এনে সংসদে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। পাল্টা বিরোধীদের ‘মহিলা বিদ্বেষী’ বলে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপির মোদি, শাহ সহ শীর্ষ নেতারা।
বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, নারী আসন সংরক্ষণের মোড়কে ভারতের ভোট মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। বিলটির বিরোধিতায় একজোট হয় বিরোধী শিবির।
বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, এই বিল ছিল নারীদের উন্নয়ন বিল। যা হল সেটা নারী শক্তির বিরোধিতা। অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, যাদের গায়ে হাতরাসের দাগ লেগে রয়েছে তাদের থেকে নারীদের উন্নয়নের কথা শুনব না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাস হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে নারীদের জন্য। কিন্তু কেন্দ্র জনগণনার অপেক্ষা করতে রাজি ছিল না। মোদি সরকার চাইছিল, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই নারীদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা হবে। সেটারই বিরোধিতায় একজোট হয়ে বাধা দিয়েছে ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা।