পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও উভয় পক্ষই আবারও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
এর মধ্যেই ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পুনরায় সচল করতে কাজ শুরু করেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে এসব ঘাঁটির প্রবেশপথে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, টানেলের মুখে আটকে থাকা ধ্বংসস্তূপ অপসারণে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে ইরান। ফ্রন্ট-এন্ড লোডার দিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে তা পাশের ডাম্প ট্রাকে তোলা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সিএনএন-এর এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে এসব ঘাঁটির প্রবেশপথে হামলা চালিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ব্যাহত করার চেষ্টা করেছিল।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার অক্ষত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এসব লঞ্চারের অনেকগুলোই হামলার কারণে ভূগর্ভে চাপা পড়ে আছে।
এ বিষয়ে জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজ-এর গবেষক স্যাম লায়ার বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় এ ধরনের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অস্বাভাবিক নয়।
তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি মানে প্রতিপক্ষ তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ পায়—যা ধ্বংস করতে বিপুল সময়, অর্থ ও প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, ইরানের ‘মিসাইল সিটি’ কৌশলের মূল লক্ষ্যই হলো প্রথম আঘাত সহ্য করে দ্রুত ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করা এবং পরবর্তীতে পাল্টা হামলা চালানো।
চলমান সংঘাত নিরসনে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদ-এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলে সেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও সম্ভাব্য বৈঠকে অংশ নিতে পারেন।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমঝোতার সুযোগ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
শীর্ষনিউজ