যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঁচটি কঠোর শর্ত দিয়েছে তেহরান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার এক মাসের যুদ্ধবিরতি চায় ওয়াশিংটন। আর ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য ১৫ দফা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শর্তগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ, লেবাননের হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে সমর্থন বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২– এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর কিছু শর্ত তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে এটি সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে– যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া, হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নতুন একটি ব্যবস্থা গঠন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করাসহ যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
এর আগে গত সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এবার তাঁরা ‘সিরিয়াস’। এক টিভি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী অসাধারণ কাজ করেছে। এখন ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ইরানের সামনে এখনো সুযোগ আছে যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করার। আমরা আশা করি, তারা সেই পথ বেছে নেবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব আরও নিরাপদ হবে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বাড়বে।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, সংলাপ আয়োজনের চলমান প্রচেষ্টার প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে পাকিস্তানের। পূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আলোচনা করতে আয়োজকের ভূমিকা পালন করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত।
সরকারি সূত্র জানায়, দুপক্ষের মধ্যে একটি বৈঠকের আলোচনা ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে। বৈঠকটি হলে, তা এক সপ্তাহের মধ্যেই হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। প্রতিরোধের অংশ হিসেবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা এবং ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে আসছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
ইরান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে জানিয়েছে, শত্রুভাবাপন্ন নয়– এমন দেশের জাহাজগুলো ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, বিশ্বে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এতে দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।