Image description

ডোনাল্ড ট্রাম্প যতটা স্পষ্ট করে কথা বলছেন, ইরানে পরিস্থিতি ঠিক ততটাই অস্পষ্ট বা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছে না আসলে কী ঘটছে। তারা জানে না, তাদের হয়ে কে আলোচনা করছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, তেহরান এখন একটি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সঠিক লোকজনের’ সঙ্গেই আলোচনা চালাচ্ছে।

শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি।’ যদিও ঠিক কীভাবে বা কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি। ট্রাম্প যাকে ইরানে ‘অত্যন্ত সম্মানিত’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং যার সঙ্গে আমেরিকানরা কথা বলছে—কে সেই ব্যক্তি?

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেল ও গ্যাসের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘উপহার’ (প্রস্তাব) দেওয়া হয়েছে—সেটিই বা কী, তাও জানা যায়নি। এর বদলে এখানকার কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের মুখে সম্পূর্ণ উল্টো কথা শোনা যাচ্ছে। তারা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ—কোনো ধরনের আলোচনাই হচ্ছে না।

এদিকে, সামরিক নেতারা কেবল বোমাবর্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথাই বলছেন এবং দেশ রক্ষায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সর্বশেষ ধাপ—‘ওয়েভ ৭৯’—শুরু হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইরানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতি ও বয়ান চলছে। এখন পর্যন্ত সবাই কেবল বোঝার চেষ্টা করছে আসলে কী হচ্ছে। চারদিকে চরম বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা বিরাজ করছে, যা পরিস্থিতিকে খুবই কৌতূহলোদ্দীপক এবং অদ্ভুত করে তুলেছে।

সূত্র : আল জাজিরা