Image description

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। পক্ষান্তরে তারা পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ খবরে বলা হয়েছে দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে বিমানবন্দরের কাছে আগুন লেগে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন শহর, যার মধ্যে তেহরান, হামদান এবং ইসফাহানকে আঘাত করছে। এর জবাবে ইরান তাদের প্রতিরোধমূলক হামলা আরো জোরালো করেছে। এতে একাধিক ইসরাইলি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তেহরান শান্তি আলোচনার আগ্রহ দেখাচ্ছে। তার এ বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ওদিকে, ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে। তারা সীমান্তে ট্যাংক ও সেনা মোতায়েন করছে। লেবাননে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৮৫০। এর মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, তিনি আশা করেন ইরানের উপর যুদ্ধ ‘পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে’ শেষ হবে, যা বাজার শান্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানের রকেট এবং ড্রোনগুলো বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কূটনৈতিক মিশন আছে। পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি আবারও দাবি করেছেন যে, ইরান ‘বেপরোয়াভাবে আলোচনা করতে চায়’। কিন্তু তিনি মনে করেন না ‘তারা যা করতে হবে তা করতে প্রস্তুত।’

ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি তারা কোনো না কোনো সময় আলোচনা করবে। ইরানের পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আমরা খুব ভালোভাবে কাজ করছি। ট্রাম্প আরও বলেছেন যে, তিনি অন্যান্য দেশের সঙ্গে কথা বলছেন হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশিং’ করার বিষয়ে। তবে ইরান জোর দিয়ে বলছে যে, হরমুজ প্রণালিটি অন্যান্য জাহাজের জন্য খোলা আছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য বন্ধ।

সারায়া আউলিয়া আল-দাম গ্রুপ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে ঘোষণা করেছে যে, তারা বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ভিক্টোরি বেসে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে। সেখানে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এক হামলার ফলে সেখানে বড় আকারে আগুন লেগেছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ বলেছে যে রকেটগুলো নিকটবর্তী একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রকেও আঘাত করেছে।

ওদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি তার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়েছেন। কোইজুমিকে ওই অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন হেগসেথ। আশ্বাস দিয়েছেন যে, ইরানের উপর যুদ্ধ জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর উপস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। হেগসেথ আরও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র জাপান জোটের প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোইজুমি টোকিওর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ইচ্ছা জানিয়েছেন।