যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর বি–১ বোমারু বিমানে শক্তিশালী বোমা মজুত করতে দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পেন্টাগন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের মতো ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অন্তত একটি বি–১ বোমারু বিমানের অস্ত্র রাখার স্থান থেকে একটি মিসাইল লঞ্চার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বি–১ বোমারু বিমান আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এসব ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তু থেকে শত শত মাইল দূর থেকে নিক্ষেপ করা যায়, ফলে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সীমানার বাইরে থেকেই আঘাত হানা সম্ভব। তবে ইরানের ভূগর্ভস্থ ও সুসংহত স্থাপনায় সংরক্ষিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র খুব কার্যকর নয়।
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে থাকা বি–১ বিমানে ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস’ (জেডিএএম) বোমা মজুত করতে দেখা গেছে। এই বোমা নিক্ষেপ করতে হলে বিমানের লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ২৫ মাইলের মধ্যে থাকতে হয়। ফলে বোমারু বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি, এমনকি ইরানের আকাশসীমার ভেতর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর অর্থ হতে পারে পেন্টাগন মনে করছে যে তারা ইতিমধ্যে ইরানের বিমানবিধ্বংসী সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে।
ফ্লাইটগ্লোবাল ডটকমের ‘ওয়ার্ল্ড এয়ার ফোর্সেস ২০২৬’ ডেটাবেজ অনুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে ৪০টি বি–১ বোমারু বিমান রয়েছে। এ ধরনের একটি বিমান ইরানের আকাশে হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘাঁটির বাইরে থেকেও যাতে এসব যুদ্ধবিমান দেখা যায়—এভাবে সেগুলো প্রকাশ্যে সাজানো হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাণ্ডারের শক্তিশালী অস্ত্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করার সক্ষমতা ইরানের খুব বেশি নেই। সূত্র: সিএনএন
শীর্ষনিউজ