চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা বলতে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ওয়াশিংটন এখন ‘কড়া নজর’ রাখছে।
বুধবার (১২ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির আপডেট দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের জন্য খুব ভালো খবর আছে। ইরান বর্তমানে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারা এখন খাদের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। তার মানে এই নয় যে আমরা এখনই যুদ্ধ শেষ করছি, তবে তাদের অবস্থা শোচনীয়।”
ইরানের বর্তমান সামরিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটির এখন কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই। এমনকি আকাশপথে হামলা ঠেকানোর মতো কোনো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও তাদের হাতে নেই।”
তিনি বলেন, “আমরা এখন দেশটির আকাশসীমায় কোনো বাধা ছাড়াই ফ্রিবোর্ড বা মুক্তভাবে বিচরণ করছি।”
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “এখন আমরা প্রণালীগুলোর দিকে খুব জোরালোভাবে নজর দিতে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে প্রণালীগুলো বেশ ভালো অবস্থায় আছে।”
ট্রাম্পের মতে, এই যুদ্ধে জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, “মূল বিষয় হলো আমাদের জিততে হবে। দ্রুত জিততে হবে, তবে জয়টা হতে হবে চূড়ান্ত। অধিকাংশ মানুষই বলছেন যে আমরা ইতোমধ্যে জিতে গেছি। এখন প্রশ্ন হলো—কখন আমরা থামব? আমরা চাই না এই শক্তি আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠুক।”
তেহরানসহ ইরানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা চাইলে তেহরানের বিভিন্ন অংশ বা অন্যান্য জায়গায় আঘাত হানতে পারি। কিন্তু তেমনটি করলে তাদের পক্ষে দেশ পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা আমরা চাই না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাইলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ধূলিসাৎ করে দিতে পারি। আর সেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে তাদের অন্তত ২৫ বছর সময় লাগবে। আদর্শগতভাবে আমরা এখনই তেমন কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছি না।”
সূত্র: আল-জাজিরা