Image description

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের পেটানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর হামলাকারী ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বাঁচাতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। 

হামলায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর। জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমসহ অনেকে। 

এতে গুরুতর আহত হন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু-সহ কয়েকজন সাংবাদিক।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা হল প্রভোস্টের কাছে হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সিসিটিভির হার্ডডিস্ক খুলে আনেন সাংবাদিকেরা। তবে তারা জানিয়েছেন, হার্ডডিস্কে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। হামলাকারীদের আড়াল করতে ঘটনা ঘটার পরপরই সকল ফুটেজ ডিলিট করে দেন হল প্রভোস্ট।

সাংবাদিকরা জানান, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের শাস্তির আওতায় আনতে হল প্রভোস্টের সহযোগিতা চান তারা। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কথা বললেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এতে ফুটেজ নষ্ট করার আশঙ্কায় সিসিটিভির হার্ডডিস্ক খুলে আনেন। ফুটেজ নিয়ে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো একটি গুরুতর ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছিল, যাতে হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু হল প্রভোস্ট ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে আসা হয়।’

সেখানে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হামলাকারীদের রক্ষা করতে হল প্রভোস্টের তত্ত্বাবধানে ইচ্ছাকৃতভাবে ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও তা নষ্ট করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।’

ফুটেজ ডিলিটের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংস্কার কাজ চলমান থাকায় তখন সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সেজন্য কোনো ফুটেজ নেই। ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বলেন, ‘তথ্যগুলো সংরক্ষিত আছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। ডকুমেন্টসের কোনো অভাব নেই। তদন্ত কমিটি যেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করার সেখান থেকে করবে।’