২০২৬ সালেও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খামের ওপর তথাকথিত ‘মুজিব শতবর্ষের’ সীল ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অবিকৃতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এখনো মুজিব শতবর্ষের সীল! জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কি কেবলই মুখের কথা?’
সোমবার (৫ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন মাসুদ সাঈদী।
তিনি লেখেন, “আমি শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। আজ কমিটির আগামী মিটিংয়ের কিছু জরুরি কাগজপত্র সম্বলিত একটি সরকারি খাম আমার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। খামটি হাতে নিয়েই আমি চরমভাবে হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়েছি। ২০২৬ সালেও এসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খামের ওপর তথাকথিত 'মুজিব শতবর্ষের' সীলসহ মুজিবের ছবি অবিকৃতভাবে প্রিন্ট করা রয়েছে!”
মাসুদ সাঈদী আরও লেখেন, “বিগত গণ-অভ্যুত্থানের পর যেখানে ফ্যাসিবাদের সমস্ত প্রতীক ও স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার জোরালো দাবি উঠেছে, সেখানে এখনো সরকারি খামে এই ধরনের প্রচারণার সাহস ওরা কোথা থেকে পায়? এই খামগুলো কারা বানালো আর কারাই বা এগুলো এখনো ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে? প্রশাসনের ভেতরে বসে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা কি এখনো বহাল তবিয়তে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে?”
তিনি লেখেন, “সরকার প্রতিনিয়ত সাধারণ জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, অক্ষরে অক্ষরে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি খামের ওপর থেকে এখনো তথাকথিত 'মুজিব শতবর্ষের' সীল ও ছবি আপনারা সরাতে পারেননি। আপনারা একটি খামের ডিজাইন পরিবর্তন করতে পারেন না, তাহলে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন কিভাবে?”
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “এ ধরনের গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত ধৃষ্টতা জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের সাথে চরম উপহাস। আমি অবিলম্বে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এর পেছনে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। অনতিবিলম্বে সমস্ত সরকারি দপ্তর থেকে এই ধরণের ফ্যাসিবাদী প্রতীক সম্বলিত সামগ্রী প্রত্যাহার করতে হবে।”