Image description

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বহিরাগত কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।

শনিবার (১৬ মে) বিকাল ৪টার দিকে দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন জাকসুর নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ শনাক্তকরণ ও তদন্ত কার্যক্রমে বিভিন্ন জটিলতা, সমন্বয়হীনতা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, যা সুষ্ঠু তদন্তকে ব্যাহত করেছে বলে জাকসু মনে করে। একইসঙ্গে যাচাইবিহীন এআই-নির্ভর ছবি প্রচারের ফলে প্রকৃত অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও বিভ্রান্তির মুখে পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে ৩টি দাবি তুলে ধরা হয় জাকসুর পক্ষ থেকে। সেগুলো হলো- দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তৎপর ভূমিকা রাখা, প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষ যাচাই, ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাকসুর দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা দেন জাকসু।

সংবাদ সম্মেলনে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দুই কর্মদিবসের আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তাকে দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখেছি, দুই কর্মদিবস অতিবাহিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ কিংবা আমাদেরকে কোনো ধরনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হয়নি। এর প্রতিবাদেই আমরা আজ এখানে উপস্থিত হয়েছি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা দায়ের করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় ক্যাম্পাস, আশেপাশের এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও বিচারের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রতিষ্ঠান তাই এটি আবেগ নয় বরং নিয়ম ও প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসন কাজ করছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে।