Image description

রাজধানীর বেসরকারি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল (অ.) ইমরুল কায়েসের পদত্যাগের দাবিতে তার কার্যালয়ে শিক্ষার্থী পরিচয়ে একদল যুবকের ‘মব’ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে শিক্ষার্থী পরিচয়ে একদল যুবক অধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করে। এ সময় তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ বিষয়ে বেসরকারি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) ইমরুল কায়েস বলেন, এখানে এ ধরনের মব তৈরি করতে পারে। আপনারা দুইজন সম্মানিত ব্যক্তি, আমার ক্যাম্পাসে ২০০ ফোর্স কেন আসবে? তারা এখানে এ ধরনের মব তৈরি করতে পারে। আমি তো এখানে চাকরি করতে এক মিনিটও রাজি না। আমাকে গভর্নিং বোর্ড জোর করে রেখেছে। কারণ আমি চলে গেলে এখানে যে ফান্ড আছে এবং অন্যান্য জিনিসপত্র সেগুলোর কী হবে, সেটাই তাদের উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, কোন শিক্ষার্থী অবস্থান নিল, এটা তো একটা শ্রেণি, যাদের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটেছে। স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটেছে যেমন এখানে যে কেনাকাটা, সবকিছু স্বচ্ছভাবে হচ্ছে, একদম স্বচ্ছভাবে হচ্ছে। চাইলে তো আর কোনো কিছু পারছে না। ছাত্ররা নিয়ে আসতেছে, যাকে-তাকে ফ্রি ফরম ফিলআপ করতে দিতে হবে, তাকে বাঙ্কে রেখে ফরম ফিলআপ করতে দিতে হবে, তাকে নানা ধরনের এক্সট্রা সুবিধা দিতে হবে এগুলো তো বন্ধ। আমি থাকা অবস্থায় এগুলো করতে দেব না।

এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় অধ্যক্ষকে অপসারণ ও তার আর্থিক দুর্নীতির বিচারের দাবিতে কলেজের সামনে এক মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধনটি পালন করা হবে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত বছরের ১৫ মে কলেজের গভর্নিং বডির এক সভায় কর্নেল (অব.) ইমরুল কায়েসকে অধ্যক্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২০ মে তাকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হলে পরবর্তীতে তিনি যোগদান করে। নিয়োগপত্রে মাসিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতনসহ সরকারি অন্যান্য অনুদান ও ভাতা প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এই নিয়োগের কপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস ওই প্রতিষ্ঠানে আগে থেকে কর্মরত কোনো শিক্ষক নন। তার সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে। এক্ষেত্রে মানা হয়নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি। তাছাড়া চুক্তিভিত্তিক এমন নিয়োগ বিধিবর্হিভূত। যদিও বিশেষ প্রয়োজনে নিয়োগ দিতে গেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি আগে নিতে হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনোটিই মানেনি।

গত বছরের নভেম্বরে এ নিয়োগের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন কলেজটির এক শিক্ষার্থী। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি চিঠি দিয়ে কলেজের সভাপতিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, অধ্যক্ষ নিয়োগে অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলি রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯-এর বিধি ৫ (ক), ৫(গ) ও ৫(ঙ) উপেক্ষা করা হয়েছে। তাই নিয়োগটি বাতিল করে বিধি অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্তকে এই দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে। এজন্য কলেজের জেষ্ঠ্যতম ১০ শিক্ষকের মধ্যে ৩ জনের একটি তালিকাও চেয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।