Image description

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ছাত্রী হোস্টেলে যাওয়া-আসার পথে জুনিয়র ছাত্রদের দ্বারা ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন সিনিয়ররা। গত ৩০ এপ্রিল ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকায় ঘটা এ ঘটনায় ছাত্র হোস্টেল সুপারের মাধ্যমে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীরা। তারা মেডিকেল কলেজটির তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। আর অভিযুক্তরা দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল দুপুরে দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন ছাত্র আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখে কলেজ লেকে গোসলে নামেন। এ সময় ওই এলাকা দিয়ে তৃতীয় বর্ষের তিনজন ছাত্রী হোস্টেলে ফেরার পথে ইভটিজিংয়ের শিকার হন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সম্প্রতি অধ্যক্ষের কোয়ার্টারে অস্থায়ী ভিত্তিতে আবাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ওই কোয়ার্টারের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়েও ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা। এ ঘটনায় দুজনের নাম উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, ৫২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে এখন তীব্র আবাসন সংকট। ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থীর তুলনায় ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলের আবাসন সুবিধা অপর্যাপ্ত। এ অবস্থায় ছাত্রী হোস্টেলে পর্যাপ্ত আবাসন না হওয়ায় ছাত্রীদের অনেককেই পার্শ্ববর্তী স্টাফ কোয়ার্টারে সিট বণ্টন করে দেওয়া হয়। একইভাবে ২০২৫-২৬ সেশনের নতুন বর্ষের ছাত্রদের মূল হোস্টেলে আবাসনের ব্যবস্থা করতে দ্বিতীয় বর্ষের ২৫ ছাত্রকে এক সপ্তাহ আগে পাঠানো হয় অধ্যক্ষের কোয়ার্টারে। ভবনটিতে অধ্যক্ষ বসবাস করেন না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা শেষ ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা হোস্টেল ত্যাগ করলে ওই ২৫ ছাত্রকে পুনরায় মূল ছাত্র হোস্টেলে ফেরত নিয়ে আসার কথা রয়েছে।

৩০ এপ্রিলের ইভটিজিংয়ের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কলেজ প্রশাসন মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে না নিয়ে বরং ছেলে-মেয়ে একসাথে মিলেমিশে থাকতে বলছে, যা কোনো কালেই সম্ভব নয়। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত ছিল— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রী

এদিকে অধ্যক্ষের কোয়ার্টারের সামনে দিয়ে ছাত্রী হোস্টেলে যাতায়াতের পথ। তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীরা বলছেন, এই ২৫ ছাত্রকে অধ্যক্ষের কোয়ার্টারে আবাসনের সুযোগ দেওয়ার পর থেকে তাদের হোস্টেল যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে। এখানকার কয়েকজন ছাত্র তাদের ইভটিজিং করে আসছেন। এ ছাড়া ছাত্রী হোস্টেলের পাশের কোয়ার্টারে বাস করা ছাত্রীরা লেকের পাশ ঘেঁষে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। সেখানেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ‘সমস্যা’ তৈরি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ছাত্র হোস্টেল থেকে ওই ২৫ জনকে মেয়েদের হোস্টেলের পাশের ভবনে স্থানান্তর করার পর থেকে ছাত্রী হোস্টেলে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ওই ছেলেদের মাঝে কয়েকজন রীতিমতো সিনিয়র মেয়েদের টিজিং করে বেড়ায়। রাতের বেলা ইভিনিং ওয়ার্ড করে হোস্টেলে ফেরার পথে রাস্তায় অনেককে সিগারেট খেতে দেখা যায়, অনেকে আবার উদ্ভট অশ্লীল গান বাজিয়ে মেয়েদের বিরক্ত করে থাকে।

তিনি বলেন, ৩০ এপ্রিলের ইভটিজিংয়ের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কলেজ প্রশাসন মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে না নিয়ে বরং ছেলে-মেয়ে একসাথে মিলেমিশে থাকতে বলছে, যা কোনো কালেই সম্ভব নয়। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত ছিল। এই ছাত্রী আরও বলেন, আগে এই দুই রাস্তা দিয়ে শুধু মেয়েরা চলাফেরা করত। ছাত্র হোস্টেল অপর পাশে হওয়ায় ছেলেদের রাস্তা অন্যদিকে। কিন্তু অধ্যক্ষের কোয়ার্টারে আবাসন সুবিধা দেওয়ায় এই ছেলেগুলো আমাদের রাস্তায় চলাফেরা করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের ছাত্র হোস্টেল সুপার ও হোস্টেল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ডা. মো. নাসির উদ্দীন গাজী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, মেয়েরা একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি ওই মেয়েদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। পরে আমরা প্রিন্সিপাল স্যারকে অবহিত করেছি। তিনি হোস্টেলে গিয়ে ছাত্রদের কাউন্সেলিং করেছেন। তবে প্রফ পরীক্ষা চলমান থাকায় এবং আগামীকাল নতুন বর্ষের ওরিয়েন্টেশন থাকায় এখনই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা শৃঙ্খলা কমিটিতে আলোচনা করব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, ছাত্রীরা যেরকম বলল, তাতে বোঝা যাচ্ছে যে একটা রুমের দুই-তিন জন ছেলে এই কাজগুলো করেছে।  ওই পথে যাওয়ার সময় এই ধরনের ঘটনাটা ঘটেছে। আর লেকে গোসল করা নিষেধ। ওখানে যারা গোসল করতে নেমেছে, তাদেরকেও আমরা শৃঙ্খলার আওতায় আনার জন্য প্রিন্সিপাল স্যারকে জানিয়েছি। স্যার এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্ট।

জানতে চাইলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কাজী আরিফ আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। হোস্টেল কমিটির কাছে জানতে চেয়েছি বিষয়টা। কালকে ডিটেইল খোঁজ নিয়ে এটার সত্যতা যাচাইপূর্বক সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।