গ্রেড বৈষম্যের কারণে টানা তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা) পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত জানুয়ারিতে নিয়োগ পাওয়া এসব শিক্ষক বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। আসন্ন ঈদেও তারা বেতন-ভাতা পাবেন না বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদটি স্কুল ও মাদ্রাসা উভয় ক্ষেত্রেই ১০ম গ্রেড হিসেবে বিবেচিত ছিল। সেই ধারণা থেকেই শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির জন্য ফাইল পাঠান। কিন্তু ফাইল পাঠানোর পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সেন্ট্রাল প্রোগ্রামার একে একে এসব ফাইল রিজেক্ট করে দিচ্ছেন।
মন্তব্যে বলা হচ্ছে, ‘ফাইলগুলো ১১তম গ্রেডে পাঠাতে হবে’। এতে মাদ্রাসার কৃষির সহকারী শিক্ষকরা চরম বিপাকে পড়েন। কেননা একই যোগ্যতা, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার পর স্কুলের ক্ষেত্রে কৃষির সহকারী শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে পাচ্ছেন। অথচ মাদ্রাসার ক্ষেত্রে সর্বশেষ এমপিও নীতিমালায় এটি ১১তম গ্রেড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একই পদে, একই যোগ্যতায় এবং একই পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেলেও স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের মধ্যে গ্রেড বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। গ্রেড বৈষম্য দূর করতে এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনও করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। পরবর্তীতে মাদ্রাসার কৃষির সহকারী শিক্ষক পদটি ১০ম গ্রেড করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেতে পাঠানো হয়েছে। তবে দেড় মাস হতে চললেও সেই চিঠির জবাব এখনো দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। এর ফলে আর্থিক সংকট ক্রমশই প্রকট হচ্ছে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-১ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।’
এদিকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের পর এপ্রিলের এমপিওভুক্তির ফাইল রিজেক্ট হওয়ায় শিক্ষকরা ইতোমধ্যে তিন মাসের বেতন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। টানা তিন মাস বেতনহীন থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
মো. মাসুদ নামে ভুক্তভোগী এক শিক্ষক বলেন, ‘কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এক মাস আগে চিঠি পাঠানো হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সেই ফাইল অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যেখানে শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন, সেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন গড়িমসির কারণ আমার জানা নেই। দ্রুত আমাদের নীতিমালা সংশোধন করে বিজ্ঞপ্তি জারির দাবি জানাচ্ছি।’