Image description

কোনও রাস্তা সোজা চলে গেছে দিগন্তের দিকে, আবার কোথাও দেখা যায় একের পর এক তীব্র বাঁক। পাহাড়ি এলাকায় এমন আঁকাবাঁকা রাস্তা তো প্রায়ই চোখে পড়ে। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, ইচ্ছে করেই বুঝি রাস্তার নকশা এমন করা হয়েছে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা তৈরি করতে গেলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঢাল। একটি রাস্তা যদি পাহাড়ের ওপর সরাসরি খাড়া পথে তৈরি করা হয়, তাহলে যানবাহনের জন্য তা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রকৌশলীরা রাস্তার পথ লম্বা করে দেন এবং একের পর এক বাঁক তৈরি করেন। এতে একই উচ্চতায় উঠতে গাড়িকে তুলনামূলক কম ঢাল অতিক্রম করতে হয়।

রাস্তার বাঁক শুধু পাহাড়ের জন্যই নয়, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সোজা রাস্তায় গাড়ি সহজেই বেশি গতিতে চলতে পারে। কিন্তু ধারাবাহিক বাঁক চালককে স্বাভাবিকভাবেই গতি কমাতে বাধ্য করে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় এটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

রাস্তা তৈরির সময় সব জায়গার মাটি কেটে সমান করে ফেলা সম্ভব নয়, আবার পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপও তৈরি করা যায় না। তাই অনেক ক্ষেত্রে পাহাড়, উপত্যকা, নদী বা বড় পাথুরে এলাকার স্বাভাবিক গঠন অনুসরণ করেই রাস্তার নকশা করা হয়। ফলে রাস্তা হয়ে ওঠে আঁকাবাঁকা।

একটি রাস্তা যতটা সম্ভব সোজা করলে দূরত্ব কমতে পারে। কিন্তু সব জায়গায় সেটিই সবচেয়ে ভালো সমাধান নয়। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় সোজা রাস্তা তৈরি করতে গেলে বড় অংশের পাহাড় কেটে ফেলতে হতে পারে। এতে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং নির্মাণকাজও অনেক বেশি জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

 

তাই রাস্তার বাঁক অনেক সময় কোনও নকশাগত ভুল নয়। নিরাপত্তা, ভূপ্রকৃতি, নির্মাণব্যয় ও পরিবেশ সবকিছুর কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয় এ ধরনের রাস্তা। দূর থেকে যে আঁকাবাঁকা পথকে অদ্ভুত মনে হয়, তার প্রতিটি বাঁকের পেছনেই থাকে প্রকৌশলের যথেষ্ট যুক্তি।