Image description

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিনের ব্যবধানে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এক তরুণী। হিজাব পরে মঞ্চে ড্রামস বাজানোর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কেউ প্রশংসা করেছেন তার দক্ষতার, কেউ আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স দেখে। ভাইরাল হওয়া সেই তরুণীর নাম নাজিয়া সামান্থা।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজিয়া জানান, সংগীতের সঙ্গে তার সম্পর্ক আজকের নয়। ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে গিটার, ভায়োলিন ও ড্রামস শেখা শুরু হয় তার। পরিবারের উৎসাহ ও সহযোগিতাতেই ধীরে ধীরে সংগীতচর্চার জগতে প্রবেশ করেন তিনি।

নাজিয়া বলেন, ড্রামস তার কাছে শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং এটি তার দীর্ঘদিনের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। হিজাব পরার সিদ্ধান্ত যেমন তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ, তেমনি ড্রামস বাজানোও তার ব্যক্তিগত পছন্দ ও শখের বিষয়।

 

এই যাত্রায় পরিবারের অবদানও স্মরণ করেছেন তিনি। নাজিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে বাবা-মা সবসময় তার পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে বাবার উৎসাহ ও প্রশিক্ষণই তাকে সংগীতের জগতে নিয়ে এসেছে।

 
 

তিনি বলেন, ‘মিউজিক লাইনে আসা আমার বাবার মাধ্যমে। ছোট থেকে বাবা আমাকে গিটার, ভায়োলিন, ড্রামস সবকিছুই শিখিয়েছে। ওভাবেই মিউজিকের সঙ্গে আমার ইনভলভ হওয়া।’

 

তবে হজ পালনের পর জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে জানিয়ে নাজিয়া বলেন, ‘লাস্ট ইয়ার, ২০২৫ সালে আমি হজ করি। হজের আগপর্যন্ত আমি ড্যান্সও করতাম, রিং ড্যান্স করতাম। হজের পরে আমি সবকিছুই ছেড়ে দিই। কিন্তু ড্রামসের প্রতি আমার আলাদা একটা টান আছে।’

ভাইরাল হওয়ার গল্পটিও ছিল বেশ আকস্মিক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের একটা ব্যান্ড আছে, নবজাত। ওদের সঙ্গেই আমি টুকটাক বাজাই। ওদের একটি প্রোগ্রামে আমি র‌্যান্ডমলি ড্রাম বাজাই। বাজানোর পর হঠাৎ করে দেখি এটা খুব ভাইরাল হয়ে যায়।’

নাজিয়া বলেন, ‘আমরা ক্লাসে ছিলাম। আমার এক বন্ধুকে ওর ব্যান্ড মেম্বার জাওয়াদ কল করে বলে, একটা শো আছে, তুমি আসো। পরে আমরা সবাই যাই। সেখানে একজন টিচার আমাকে চিনতে পারেন। উনি বলেন, ‘তুমি তো পারো, তুমি একটু বাজাও তো।’ ওইভাবেই আমি স্টেজে উঠি। জাস্ট জ্যামিং করতেছিলাম। জ্যামিং করতে করতে ওরা গান ধরে ফেলে। নরমালি ওভাবে আমি বাজিয়ে দিই। তারপর হঠাৎ দেখি এটা খুব ভাইরাল হয়ে যায়।’

সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভাইরাল হওয়ার পর প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে নাজিয়াকে। বিশেষ করে হিজাব পরে ড্রামস বাজানো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও কটূক্তি শুনতে হয়েছে তাকে। তবে এসব নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

নাজিয়ার মতে, মানুষের মন্তব্য সবসময়ই থাকবে। কিন্তু নিজের বিশ্বাস ও পছন্দের জায়গা থেকে তিনি যা করছেন, তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। যারা ইতিবাচকভাবে তাকে সমর্থন করছেন, তাদের ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।