Image description

ভারতে মডেল, অভিনেত্রী তিশা শর্মার মৃত্যু ঘিরে রহস্য জট বাধছে। তার মৃত্যুতে দিল্লি থেকে ভুপাল এবং সারা দেশে ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে। এআইআইএমএস ভুপালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়ডার ওই নারীর বিয়ের পর ভুপালে শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় দেহ। যে বেল্টটি ব্যবহার করে আত্মহত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়নাতদন্তের সময় নিয়ে আসেননি। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ অনুপস্থিত থাকায় চিকিৎসকরা কথিত ফাঁসির উপকরণ (লিগেচার মেটেরিয়াল) এবং নারীর গলায় পাওয়া দাগের মধ্যে মিলিয়ে দেখতে পারেননি। এতে তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রমাণ নষ্ট বা বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

 

মডেল ও অভিনেত্রী তিশা শর্মা (৩৩) ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সমর্থ সিং-এর সঙ্গে পরিচিত হন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে বিয়ে করেন। তাকে গত ১২ই মে ভুপালের কাটারা হিলস এলাকায় নিজের শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার পরিবার অভিযোগ করেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত। যৌতুকের জন্য হয়রানি করত এবং প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

মিসরোদ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) রজনীশ কাশ্যপ বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আইএএনএস’কে জানিয়েছেন যে- ঘটনাস্থল থেকে বেল্টটি উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এটি না আনার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন, পরে সেই বেল্টটি ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) টিমের কাছে দেয়া হয়। এরপর এআইআইএমএস ভুপালে জমা দেয়া হয়।
তিশা শর্মার মৃত্যুর তদন্তে আরেকটি প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে পুলিশকে না ডেকে তার দেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কীভাবে। এ বিষয়ে কাশ্যপ আইএএনএস’কে বলেন, এটি আমাদের চলমান তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ওই বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং আমরা সেগুলোর ফুটেজ সংগ্রহ করছি। পাশাপাশি তাকে হাসপাতালে নেয়ার পরিস্থিতি নিয়েও তদন্ত চলছে। তিশা শর্মার পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, সমর্থ সিং-এর মা গিরিবালা সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং এই মামলার সহ-অভিযুক্ত। তিনি এতে প্রভাব খাটিয়েছেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে- তার পুত্রবধূ একজন মানসিক রোগী এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। ওষুধ না পেলে তার মধ্যে নানান লক্ষণ দেখা দিত। পুলিশ জানিয়েছে, এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিশা শর্মা মৃত্যুর মামলা আপডেট

যৌতুকের অভিযোগ খণ্ডন করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং অনলাইন লেনদেনের রসিদ সংযুক্ত করেছেন, যার পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত। তিনি দাবি করেন, তারা নিয়মিতভাবে তিশার প্রয়োজন মেটাতেন। আগে ভুপালের একটি সেশন আদালত গিরিবালা সিং’কে আগাম জামিন দিলেও তার ছেলে সমর্থ সিং-এর জামিন আবেদন খারিজ করা হয়। এরপর ভুপাল পুলিশ সমর্থ সিং-এর গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে ১০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে। মৃত নারীর পিতা নবনিধি শর্মা জানান, জামিন আবেদন খারিজ হওয়া আংশিক ন্যায়বিচার। তবে প্রকৃত ন্যায়বিচার তখনই হবে যখন দু’জনকেই শাস্তি দেয়া হবে। তিনি দাবি করেন, স্বামী ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক- উভয়েরই অবিলম্বে গ্রেপ্তার প্রয়োজন।
তিশা শর্মার পরিবার দাবি করেছে, তিনি বিয়ের আগে একজন হাসিখুশি মেয়ে ছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর বদলে যান এবং ক্রমাগত মানসিক নির্যাতনের কারণে তার ওজন ১৫ কেজি কমে যায়। সোমবার তার মা ও এক বন্ধুর সঙ্গে করা কিছু চ্যাট সামনে আসে, যেখানে তিনি বারবার তাকে উদ্ধার করার অনুরোধ করেন।

তিনি মাকে তাকে ভুপাল থেকে ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন এবং বন্ধুকে পরামর্শ দেন যেন সে কোনো বিয়েতে আটকে না পড়ে। মায়ের সঙ্গে চ্যাটে গর্ভাবস্থা, গর্ভপাত এবং সমর্থ সিং-এর প্রশ্ন- ‘শিশুটির বাবা কে’- এসব বিষয়ও উঠে আসে। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর দিন রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।