Image description

ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার আশির দশকের অভিনেত্রী রঞ্জিতা কনা। রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ছিনতাইকারী তাঁর কানের দুল ধরে টান দিলে কান ছিঁড়ে দুই ভাগ হয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল রবিবার রাতে। জানা গেছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে এফডিসিতে গিয়েছিলেন রঞ্জিতা। দীর্ঘদিন পর সহশিল্পীদের সঙ্গে আড্ডা ও নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন তিনি।

অভিনেত্রী জানান, রামপুরা বাজার এলাকার একটি গলি দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একজন ছিনতাইকারী তাকে অনুসরণ করতে থাকে।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি তার কানের দুল টেনে নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে কানের একটি অংশ ছিঁড়ে যায় এবং রক্তপাত শুরু হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার কানে সাতটি সেলাই দিতে হয়।

ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় রঞ্জিতা বলেন, ‘শিল্পী সমিতির নির্বাচন আমাদের কাছে সব সময় উৎসবমুখর।

সেটা দেখার জন্য আমি এফডিসিতে গিয়েছিলাম। রাতের দিকে বাসার ফেরার সময় হঠাৎ কেউ আমাকে অনুসরণ করছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই ছিনতাইকারী আমার কানের দুল ধরে টান দেয়।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেছি। পরে চিৎকার করি।

তখন দেখি কান থেকে রক্ত ঝরছে। আমার কানে দুল নাই। ছিনতাইকারী দুল টান দেওয়ায় কানটা ছিঁড়ে গেছে। আমার কান দুই ভাগ হয়ে গেছে।’

ঘটনার পর সহায়তার জন্য শিল্পী সমিতির কয়েকজন সদস্যকে ফোন দেন রঞ্জিতা। পরে অভিনেতা জয় চৌধুরী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে জয় চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি রাতে হঠাৎ দেখি রঞ্জিতা আপুর মোবাইল ফোন থেকে তিনটি কল ও একটি এসএমএস। সেখানে লেখা জরুরি। পরে ফোন দিয়ে জানতে পারি রঞ্জিতা আপুর অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে চলে যাই। হাসপাতালে গিয়ে দেখি তখনো রক্ত থামছিল না। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে কানে সেলাই দেওয়া হয়। তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।’

জানা গেছে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যার কারণে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রঞ্জিতা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে বাসায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জয় চৌধুরী।

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন অভিনেত্রী।

আশির দশকের শেষ দিকে নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘ঢাকা ৮৬’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় রঞ্জিতার। সেই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছিলেন বাপ্পারাজের বিপরীতে। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। পরে ‘রাজা মিস্ত্রী’ ও ‘জ্বীনের বাদশা’সহ প্রায় ৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেন। ২০০৫ সালের পর তাকে আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি।