Image description

ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে মুখ খুলেছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

তিনি জানিয়েছেন, কারিনা কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতেন না এবং কোনো দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাও ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি মাঝে মাঝে সামাজিক মাধ্যমে কথা বলতেন ও ভিডিও তৈরি করতেন।

গত রোববার বিকেলে কারিনার মরদেহ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেটি গ্রহণ করেন কায়সার হামিদ। পরে বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেয়ের জনপ্রিয়তা নিয়েও আবেগ প্রকাশ করেন তিনি।

কায়সার হামিদ জানান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কারিনাকে যে এত মানুষ ভালোবাসে, সেটা তার জানা ছিল না। দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে তিনি গর্বিত।

এর আগে রোববার রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কারিনার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, সোমবার সকালে মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে চতুর্থ জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা কায়সার। ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ তার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। পরে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

চিকিৎসকেরা জানান, হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দিয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি কারিনা একজন দক্ষ চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের আলোচিত সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’-এ কাজ করে তিনি দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।