Image description

কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার–এর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী, বন্ধু, স্বজন, সংস্কৃতি অঙ্গন, এমনকি ক্রীড়াজগতের পরিচিত মুখরাও তার আকস্মিক চলে যাওয়ায় শোক প্রকাশ করছেন। সবাই ভেবেছিলেন, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরবেন তিনি। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

শুধু কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে গল্প লেখা শুরু করেছিলেন কারিনা। নিজের লেখা একটি গল্প নিয়েই কাজ করছিলেন তিনি, যেখানে অভিনয়ও করেছিলেন নিজেই। সেই প্রসঙ্গ টেনে নির্মাতা রেদওয়ান রনি শোকবার্তায় লিখেছেন, কারিনা যেন গল্প লিখতে লিখতেই না ফেরার গল্পের দেশে চলে গেলেন।

রেদওয়ান রনি জানান, দেখা হলেই তাদের মধ্যে মজার এক তর্ক হতো—কে কার বড় ভক্ত। কারিনার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, গল্প বলার ভঙ্গি এবং হাসিমাখা স্বভাবের কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, “এইতো কয়েকদিন আগে বলে গেল, লেখাটা শেষ হলেই গল্পটা শুনব আবার। কারিনা গল্প লিখতে গিয়ে নিজেই না ফেরার গল্পের দেশে চলে গেল।”

ইনফ্লুয়েন্সার Rakin Absar দোয়া চেয়ে আরবি ভাষায় লিখেছেন, আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করেন, রহমত দান করেন এবং শান্তি দেন।

চিত্রনায়িকা দীঘি স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, কিছুদিন আগেও কারিনা তাকে ফোন দিয়ে নতুন সিনেমা দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই অসমাপ্ত কথোপকথনের স্মৃতি তাকে নাড়া দিচ্ছে।

 

সহকর্মী ইনফ্লুয়েন্সার ডানা ভাই জোস লিখেছেন, কারিনা ছিলেন হাসি, বন্ধুত্ব আর মমতার প্রতিশব্দ। তার ভাষায়, “তুমি ছিলে আমাদের জীবনের রোদ্দুর, এখন হয়তো সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা।”

সংগীতশিল্পী মিনার রহমান লিখেছেন, কারিনার তৈরি কনটেন্ট সবসময়ই প্রাণবন্ত ছিল। খুব অল্প কয়েকবার দেখা হলেও তিনি নিয়মিত তার কাজ অনুসরণ করতেন। শেষবার এক দাওয়াতে দেখা হয়েছিল, যেখানে কারিনা একটি টক শো করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।

অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান জানান, মাত্র এক মাস আগে কারিনা তার কাজের প্রশংসা করে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, কখনও ভাবেননি সেটিই হবে শেষ কথা।

এছাড়া পরিসা ইভানামাকসুদা মাসুনাজিফা তুষিইমতিয়াজ বর্ষণখিজির হায়াত খানআরিক আনাম খানতাসনুভা তিশা এবং উপস্থাপিকা নীল হুরের জাহান–সহ আরও অনেকে সামাজিক মাধ্যমে শোক জানিয়েছেন।

একজন হাসিখুশি, প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে পরিচিত কারিনা কায়সারের বিদায়ে যেন হঠাৎ থমকে গেছে অনেকের স্মৃতির অ্যালবাম। তার অসমাপ্ত গল্প এখন শুধু স্মৃতিতেই বেঁচে থাকবে।