বিশ্ববাজারে সোনার দাম শুক্রবারও কমেছে। এতে চার মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতনের পথে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটি।
জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকেও তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০.১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২১ ডলার ৪ সেন্টে দাঁড়ায়। এর আগে লেনদেনের একপর্যায়ে দাম ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ৩.৬ শতাংশ কমেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে জুনের পর এটি হবে সোনার সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন।
এদিকে শুক্রবার সকালে বাংলাদেশের বাজারে সোনার নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। তবে বিশ্ববাজারে সোনার দর পতন হওয়ায় বাংলাদেশে দাম আরও কমতে পারে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ডটকমের বাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান মন্টে সাফিয়েদ্দিন বলেন, বিনিয়োগকারীরা সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমার ওপরে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এ সীমার নিচে দাম নেমে গেলে বাজারে সুদের হার কমার প্রত্যাশা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, উচ্চ বন্ডের মুনাফা ও শক্তিশালী ডলারের প্রভাব বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে। এতে ফেড সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখবে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে। সুদ না পাওয়া সোনায় বিনিয়োগের সুযোগব্যয়ও এতে বেড়ে যায়।
সাফিয়েদ্দিন বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ, বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং ফেডের সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা সোনার বাজারের জন্য নেতিবাচক।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের জন্য ফেড এই সূচকটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ।
বাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী মনে করছেন, আগামী সপ্তাহে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে ৭৬ শতাংশ প্রত্যাশা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স