আমাদের দেশের অসংখ্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা জীবনের প্রয়োজনে প্রবাসে থাকাকালীন একে অপরের থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকেন। কেউ হয়তো সৌদি আরবে থাকাকালীন রিয়াল ধার নিয়েছেন, কেউ ইউরোপে পাউন্ড কিংবা আমেরিকায় ডলার ঋণ নিয়েছেন। সময়ের ব্যবধানে কয়েক বছর পর যখন ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ই দেশে ফিরে আসেন, তখন সেই ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে অনেক সময় দ্বিধাদ্বন্দ তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মানের পরিবর্তন ঘটে, তখন ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার নিয়মটি জানা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে কালবেলার পাঠকদের জন্য সঠিক নিয়ম জানিয়েছেন খ্যাতিমান ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার। নিচে নিয়মটি তুলে ধরা হলো।
মুদ্রার বিনিময় ও শরিয়াহর বিধান
প্রবাসে নেওয়া ঋণ পরিশোধের সবচেয়ে সহজ এবং ঝামেলামুক্ত পদ্ধতি হলো, যে মুদ্রা বা কারেন্সিতে ঋণ নেওয়া হয়েছিল (যেমন: ডলার, রিয়াল বা পাউন্ড), ঠিক সেই মুদ্রাতেই তা পরিশোধ করে দেওয়া। এতে কোনো ধরনের জটিলতা থাকে না।
তবে সমস্যা বা বিতর্কের সৃষ্টি হয় তখনই, যখন প্রবাসে বৈদেশিক মুদ্রায় নেওয়া ঋণ বাংলাদেশে আসার পর দেশীয় মুদ্রা অর্থাৎ ‘টাকা’ দিয়ে পরিশোধ করতে চাওয়া হয়। সাধারণত দেখা যায়, কয়েক বছর আগে যখন ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তখন ডলার বা রিয়ালের দাম বর্তমান সময়ের তুলনায় কম ছিল। এখন ঋণ পরিশোধের সময় টাকার বিপরীতে ওই বৈদেশিক মুদ্রার দাম অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে, ঋণগ্রহীতা কি পূর্বের কম দামের হিসেবে টাকা দেবেন, নাকি বর্তমানের বর্ধিত দাম অনুযায়ী?
ফোকাহায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত
মুফতি আবরার জানান, এই বিষয়ে ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ বা ফোকাহায়ে কেরামের সুষ্পষ্ট অভিমত হলো, আপনি যদি প্রবাসে নেওয়া বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ দেশে এসে টাকায় পরিশোধ করতে চান, তবে আপনাকে পরিশোধ করার দিনের বাজারমূল্য বিবেচনা করতে হবে।
অর্থাৎ, যেদিন আপনি পাওনাদারকে টাকাটা বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ঠিক সেই দিনে বাজারে ডলার বা রিয়ালের যে রেট বা বিনিময় মূল্য থাকবে, সেই হিসাব অনুযায়ী আপনাকে টাকা প্রদান করতে হবে। ঋণ গ্রহণের সময় মুদ্রার দাম কত কম বা বেশি ছিল, শরিয়ত অনুযায়ী সেই হিসাব এখানে বিবেচ্য হবে না।
সতর্কতা ও পরামর্শ
লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা ঈমানি দায়িত্ব। যেহেতু সময়ের ব্যবধানে মুদ্রার মান ওঠানামা করে, তাই পাওনাদারের হক যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রবাসে নেওয়া ঋণের বোঝা দেশে এসে টাকার মাধ্যমে হালকা করতে চাইলে অবশ্যই বর্তমান বাজারদরের সাথে সমন্বয় করে তা আদায় করুন। এতে করে একদিকে যেমন শরিয়তের বিধান পালিত হবে, অন্যদিকে সামাজিক সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক বিশ্বাসও অটুট থাকবে।