কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একাধিক মামলার পলাতক আসামি ফরিদুল আলমকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৫ এর সদস্যরা। গ্রেপ্তারের পর উত্তেজিত জনতা র্যাবের ২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। এ সময় র্যাবের অন্তত ৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া মাঠে একটি ইফতার মাহফিল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ফরিদুল আলম টেকনাফ সদর নাজির পাড়া এলাকার ছিদ্দিক আহম্মদের ছেলে। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ার ফুটবল মাঠ থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফরিদুল আলমকে নাকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। পুলিশ ও কোস্টগার্ড ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় আগুনে পুড়ে যাওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কক্সবাজারের র্যাব-১৫ ব্যাটালিয়ান সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার পলাতক আসামি ফরিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা র্যাবের দুটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন।
র্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১ এর স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা জানান, নাজিরপাড়ায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে র্যাবের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং র্যাবের দুইটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনি নিজেসহ ৭ জন সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ জানান, রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ আহত ৭ জন র্যাব সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৫০), সাইফুল ইসলাম (৪২), খালিদ হোসেন (৩১), বেলাল হোসেন (৩০), সোহেল মিয়া (৩৫), মোহাম্মদ সোহেল (৩১), মোহাম্মদ কামরুল (৩৪)। তাদের মধ্যে সোহেল মিয়া ও মোহাম্মদ সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।