পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অপসারণ ও তাকে যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জাতীয় নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজসাক্ষী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, শুরু থেকেই আমরা দেখেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন ব্যক্তি—যিনি আমাদের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন—তিনি প্রথম দিনেই খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করান। অথচ এটি ছিল তার আগের অবস্থান ও শপথের পরিপন্থী একটি কাজ। এখানে বিষয়টি স্পষ্ট যে, তিনি লন্ডন ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন।
‘সেখান থেকে তিনি সরকারকে প্রভাবিত করে একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সুবিধা দেওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন। তার সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন’, যোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘এ ঘটনায় বিএনপির ভূমিকা নিয়েও আমি বিস্মিত হয়েছি। কারণ প্রশ্ন হচ্ছে—বিএনপির কি এতটাই লোকসংকট যে, একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে মন্ত্রী করতে হবে? অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ নিজেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং তাকে সরকার থেকে অপসারণের দাবি তুলেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে যে ব্যক্তি তখন বিএনপির দৃষ্টিতে বিতর্কিত বা অগ্রহণযোগ্য ছিলেন, তিনি কীভাবে পরে বিএনপির আস্থাভাজন হয়ে মন্ত্রী হলেন? এতে মনে হয়, সালাউদ্দিন আহমেদের সেই বক্তব্যের পর খলিলুর রহমান গোপনে বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সমঝোতায় গিয়েছিলেন।’
তার ভাষ্য, ‘সম্ভবত এমন একটি সমঝোতা হয়েছিল যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি বিএনপিকে নির্বাচনে সহায়তা করবেন এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাকে মন্ত্রী করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থান থেকে এই বিষয়গুলো অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।’
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘খলিলুর রহমানকেও এই সরকারের উচিত যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা। কারণ জানতে হবে—কী ধরনের ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করেছেন। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এই জাতির দীর্ঘদিনের দাবি এবং মানুষের মনের গভীর আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘এই যে জাতির আকাঙ্ক্ষা, এই যে দীর্ঘ লড়াই, এই যে মানুষের জীবন দেওয়া, এই যে রক্ত—সবকিছুর মধ্য দিয়ে জাতি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু আমাদের রাজনীতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার যে গাদ্দারি, দালালি এবং জাতির সঙ্গে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে—তার জন্য এরা দায়ী।’
তিনি আরও বলেন, জাতির এত বড় প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই কাজটি যারা করেছে, তারা মূলত জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাই আমি তাদের ‘মীর জাফর’ বলেই মনে করি।
সরকার যদি সামান্য হলেও স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে চায়, তাহলে খলিলুর রহমানকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ রহমান, যিনি তখন নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং এর আগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তাকেও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা উচিত। কারণ কী ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে, সেটি জাতির সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিজেই একপ্রকার রাজসাক্ষী হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজের বক্তব্যের মাধ্যমেই বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাই তার কাছ থেকেও সত্য উদ্ঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি।