জুলাই আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। তবে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উদ্বোধনী ব্যানার টানিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া সেই কার্যালয়ের ‘উদ্বোধন’ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
পরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর কুমারপাড়ায় অস্তিত্বহীন অফিসের সামনে টানানো সেই উদ্বোধনী ব্যানার পুড়িয়ে ফেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকালে ব্যানার টাঙানোর বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহযোগী সংগঠন সেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। সেখানে নেতৃত্ব দেন বিএনপির মহানগন কমিটির বোয়ালিয়া পশ্চিমের সভাপতি শামসুল আলম মিলু। তারা ব্যানারটি টেনে ছিঁড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।
শামসুল আলম মিলু বলেন, অস্তিত্বহীন আওয়ামী লীগের অফিসে উদ্বোধনী ব্যানার টানানোর বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার চেষ্টা করেছি, কারা এই ব্যানার টানিয়েছে। দুই-তিন জন ব্যক্তি এই ব্যানারটা নিয়ে চলে গেছে। তবে তাদের চেহারায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। পরে আমার সঙ্গে থাকা লোকজন সেই ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে এবং আমরা পরে সেটি পুড়িয়ে ফেলি।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, রাতের আধারে কে বা কারা ব্যানারটি টাঙিয়ে রেখে যায়। পরে খবর নিয়ে দেখছি সেটি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবে কে লাগিয়েছে বা পুড়িয়েছে সেটি জানা নেই।
উল্লেখ্য, রাজশাহী আওয়ামী লীগের সুতিকাগার ছিল নগরীর আলুপট্টিতে অবস্থিত মহানগর দলীয় কার্যালয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগের দলীয় সেই কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদী নিহতের ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা পরিত্যক্ত সেই আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বুলডোজার দিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলে। আর সেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলা দলীয় কার্যালয়ের সামনে উদ্বোধনী ব্যানার টানিয়েছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।