Image description

মাতৃভাষা দিবসে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলণ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এবার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এবং জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মো. আয়াসের নেতৃত্বে সে কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে তা পাবলিক টয়লেট বানানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা সোয়া এগারোটায় ভাঙচুর চালায় তারা। এর পর পুলিশ গিয়ে তাদেরকে সরিয়ে দেয়।

এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি এই কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান,  আজ  বেলা ১১টার পর শ্রমিকসহ চারজন ব্যক্তি নিয়ে ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় শিববাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান আল নূর মো. আয়াস। এসময় শ্রমিকেরা কলাপসিবল গেটের পাশে থাকা একটি জানালা ভেঙে ফেলেন। অপর জানালার কিছু অংশও ভাঙা হয়।

একই সময়ে ভেতরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচির একটি ব্যানারে ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া কার্যালয়টির সামনে একটি টায়ারে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সেখানে একদল পুলিশ গিয়ে টায়ারের আগুন নিভিয়ে কার্যালয়টি ভাঙা বন্ধ করে তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজনের তোপের মুখে পড়েন আল নূর।

কার্যালয়টি ভাঙার কারণ হিসেবে আল নূর মো. আয়াস বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই রেদোয়ান হোসেনকে প্রকাশ্যে হত্যা করে। এখন তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের যেসব ভাইয়ের রক্তে এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়েছে, সেখানে ফ্যাসিবাদের কোনো জায়গা হবে না। একই সঙ্গে কার্যালয়টি অফিশিয়ালি টয়লেট হিসেবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই নেতা আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত বাংলার মাটিতে খুনিদের বিচার না হবে, ততদিন পর্যন্ত এই খুনিদের কোনো কার্যক্রম করতে দেওয়া যাবে না। আমরা খুনিদের মারতে চাই না, আইন অনুযায়ী তাদের ব্যবস্থা নিতে চাই। প্রশাসন অবশ্যই যেন সে ব্যবস্থা করে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয় এবং ভাঙচুর থেকে বিরত করা হয়। যারা ভাঙচুর করেছে আমরা তাদের তথ্য নিচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।