Image description

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এক ঝটিকা সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ছেলে নাজমউদ্দিন বিলাল এরদোগান।

নতুন সরকারের অভিষেকের পরপরই আঙ্কারার এই উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে, যা নিয়ে ভারতের নীতি-নির্ধারক ও গণমাধ্যমে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তারেক রহমানের শপথের পরপরই বিলাল এরদোগানের এই সফর কেবল সৌজন্যমূলক নয়। তাদের মতে, তুরস্ক এখন বাংলাদেশে চীনের বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চাইছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দিল্লির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

ভারতীয় একটি শীর্ষ দৈনিক তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, "বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন তুরস্কের অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ঢাকার হাতে আসা মানে ভারতের পূর্ব সীমান্তে শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়া।"

 

বিলাল এরদোগানের সাথে এই সফরে রয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সাহায্য সংস্থা 'টিকা'র সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন। তাদের সফরের মূল দিকগুলো যা ভারতীয় মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে:‌ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ‘অপারেশনাল আর্মস ট্রেড’ থেকে সরে এসে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তর। তুরস্কের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রকল্পে সহায়তার বিষয়টি ভারতীয় বিশ্লেষকরা ‘প্যান-ইসলামিস্ট’ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

 

বিলাল এরদোগানের কক্সবাজার সফর এবং সেখানে তুরস্কের সরাসরি নিয়ন্ত্রণকে ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ মনে করছেন।

 

নয়াদিল্লির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের 'এশিয়া অ্যানেউ' পলিসির অংশ হিসেবেই ঢাকাকে বেছে নিয়েছে আঙ্কারা। ভারতের জন্য ভয়ের কারণ হলো, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের বলয়ে এখন বাংলাদেশও যুক্ত হতে যাচ্ছে কি না।

 

যদিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সাথে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ সম্পর্কের কথা বলেছেন এবং ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সাথে ইতিবাচক বৈঠক করেছেন, তবুও আঙ্কারার সাথে এই ‘দ্রুত সখ্য’ দিল্লির কূটনৈতিক মহলে বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে।