সন্ধ্যা সাতটার দিকে হাতিয়ার প্রকল্প বাজারে বিএনপি পন্থীরা আনন্দ মিছিল শুরু করে। বাজারে ৩ বার মহড়া দেয় তারা। একপর্যায়ে বাজার ছেড়ে তারা মূল প্রকল্প এলাকা (আশ্রয়ন কেন্দ্রে)'র গলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ওই কেন্দ্রে মোট ৯৫০ পরিবার বসবাস করে। গলিতে ডুকে হান্নান মাসউদের চাচাত বোন রুনা, রুনার হাজবেন্ড আজীম সহ শাপলা কলির ভোটার যারা তাদের সবার ঘরে হামলা চালানো হয়। যারে যেভাবে পারছে সেভাবে মারধর করে।
আনুমানিক ২০০/৩০০ লোক ছিল। সামনের যারা ছিল সবাই দেশীয় অস্ত্র+কয়েকটা রাইফেল সমেত ছিল। ঘরগুলো ভাঙ্গচুর করে জিনিসপত্র লুট করে। একটি বাইকসহ কিছু জিনিসপত্র জ্বালিয়ে দেয়। এভাবে চলতে থাকে রাত দশটা পর্যন্ত। গলির মানুষগুলো কেউ বের হয় কিনা এটি তদারকি করার জন্য প্রতি গলিতে ৩/৪ জন পাহাদার নিযুক্ত করে। পাহারাদার নিয়োগ করে তারা বাজারে ১ মন মাংসের বিরিয়ানির (শোনা যাচ্ছে ওখানকার মানুষের গরুর মাংস) আয়োজন করে। কলোনীর পুরুষ,মহিলা বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে পালিয়ে ছিলেন। কেউ কোনোভাবে মুভ করতে পারতেছিলেন না। এরপর সন্ত্রাসীরা টার্গেট করে আবার বিভিন্ন ঘরে হানা দেয়। হান্নান মাসউদের চাচাত বোন,চাচাত বোনের সাথে যারা ভোট করছিলেন সবাইকে খুঁজতে থাকে। যখন হামলা চলে তখন মহিলারা একেকজন একেক ঘরে ৫/১০ জন করে আশ্রয় নেয়। পুরুষরা বিভিন্নভাবে লুকিয়ে থাকে।
একপর্যায়ে ভিক্টিম যিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তার ঘরে দরজা ভেঙ্গে ডুকে পড়ে রহমান,কালা এমরান প্রমূখ। ওই সময় মহিলার হাজবেন্ড রান্না ঘরে লুকিয়ে ছিল। মহিলাকে হাত ধরে বাহিরে নিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় দরজা বাহিরে থেকে আটকে দেয়। মহিলার ভাষ্য মতে, তারা আমাকে শাপলা কলি ওই জায়গায় ডুকিয়ে দেব হেনতেন বলে ধমকাতে থাকে। তারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটাতে পারে এটা আমি কোনোভাবেই ভাবতে পারিনি। আমাকে টেনে কাপড় চোপড় খুলে ফেলে। উলঙ্গ প্রায় অবস্থায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। তিনজনের মধ্যে রহমান আমাকে ওয়াশরুমে নিয়ে যায়। বাকি দুজন বাহিরে পাহারায় ছিল। ওয়াশরুমের দেয়ালের সাথে রেখে আমাকে...........
মহিলার স্টেটমেন্টের অনেকগুলো ভিডিও আছে। কিছু জায়গায় টাইম হয়ত ঠিকঠাক মিলবে না। কিন্তু ঘটনা সত্য এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে এরা ডাকাত,টোকাই শ্রেণীর। আর এই মহিলাগুলোও খুব ই ছিন্নমূল শ্রেনীর। ভুক্তভোগীর ভাষ্য দেখে বুঝলাম, এ ধরণের ঘটনা আরও অনেক ঘটেছে উনাদের সাথে। এটাই হয়ত প্রথম না। প্রকাশের পরিবেশ পায়ছে বলে এটা প্রকাশ করছে।
হামলার মূল হোতা বেলাল মাঝি। স্বীকৃত ডাকাত। যে ব্রিকফিল্ডের মাঝি ছিল। লীগের সময় মোহাম্মদ আলীর লোক হিসেবে পরিচিত ছিল। তার সাগরেদ রহমান,এমরান। তবে ৫ আগষ্ট পর থেকে ধানের শীষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তারা অপরাধী রহমানকে আহত সাজিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
একজন মহিলার যোনিতে রড ডুকিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসতেছে। কি বর্বরতার যুগে আমরা বসবাস করছি। হাতিয়ার ভাষায়, 'গোড়ায় আমগো তারেক রহমান, তোগো হান্নাইন্না কি' এধরণের কথা বলেই মূলত ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
ভিক্টিম মেডিকেল অফিসারের কক্ষে, প্রথম আলো, জাগো নিউজের সাংবাদিক, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব কাজী তানভীরের উপস্থিতিতে স্টেটমেন্ট দেয়। সদর হসপিটালে ভর্তি নিশ্চিত করা হয়। নিচে ভর্তির রেজিস্ট্রার সংযুক্ত করা হলো।